স্টাফ রিপোর্টার :
কঠোর লকডাউনের ১১তম দিনে গতকাল সোমবার নগরীর রাস্তা-ঘাটে জনসমাগম, রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অতিবাহিত হয়েছে।
নগরীর বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, মিরাবাজার, মদিনা মার্কেট এলাকায় রাস্তায় মানুষ আর মানুষ। পাড়া-মহল্লায় চলছে তরুণ, যুবক ও উঠতি বয়সীদের আড্ডা। সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, রিকশায় কোথাও কোথাও যানজটও দেখা গেছে। কঠোর লকডাউনের মধ্যেও এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।
সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কঠোর লকডাউনের মধ্যেও সব কিছুই যেন স্বাভাবিক! ভোর থেকে সোবহানীঘাটে সবজি বাজার, কদমতলীর ফল মার্কেট ও কাজিরবাজারের মৎস্য আড়তে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শত শত মানুষের ভিড়ে মুখরিত পাইকারী বাজারে আসা বেশিরভাগ ক্রেতা বিক্রেতাকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো পরিবেশ সেখানে চোখে পড়েনি। একই অবস্থা বন্দরবাজার লালবাজারেও। শত শত মানুষের ভিড় দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে কোনো লকডাউন আছে।
সোহানীঘাটে সবজি বাজারের কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, মানুষ বাজারে আসবেই। এখানে আবার কিসের লকডাউন?
আব্দুল করিম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, জীবন জীবিকার জন্য বাজারে আসতে হয়। কিন্তু এখানে যে অবস্থা তাতে ভয় লাগে। কেউ কোনো নিয়ম মানে না। মানানোর চেষ্টাও নেই। তিনি বলেন, আমি ফাঁকে ফাঁকে থেকে যতোদূর সম্ভব নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।
বন্দরবাজারস্থ লালবাজারে আসা মিজানুর রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, এখানে লকডাউন বলে কিছু নেই। গত লকডাউনেও ছিল না।
জিন্দাবাজার ও কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সিএনজি অটোরিকশার জট। এছাড়া শত শত রিকশার ভিড়ে কোথাও কোথাও যানজট লেগে গেছে। চৌহাট্টা থেকে আম্বরখানা পর্যন্তও পর্যন্ত চলাচল করছে শত শত রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা। মাঝে মাঝে পুলিশ আসলে এসব গাড়ী ভোঁদৌড় দিচ্ছে।
এদিকে, নগরীর অলি-গলি ঘুরে দেখা গেছে, গলির মধ্যে দোকানগুলো খোলা রয়েছে। প্রতিটি দোকানে চলছে আড্ডা। বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলোতে তরুণ, যুবক ও উঠতি বয়সীদের আড্ডা লক্ষণীয়।
তবে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সরকারি বিধিনিষেধ মানার জন্য টহলের পাশাপাশি চেকপোস্ট বসিয়েও দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। এছাড়া প্রয়োজন ছাড়া যেসব মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তারপরও মানুষ ও গাড়ির চাপ বাড়ছে।





