আরও ৫৩ হাজার বাড়ি ২০ জুন হস্তান্তর করা হবে

10

কাজিরবাজার ডেস্ক :
রমিজ শেখ, কান্দুনী বালা, ভবেশ গুনজারসহ শত শত দিনহীন, ভূমিহীন, গৃহহীন ছিন্নমূল মানুষ। বেদনার্ত তাদের জীবন। কারও ছিল না নিজস্ব কোন স্থায়ী ঠিকানা। সবার নূন আনতে পান্তা ফুরোয়। মাঠে-ঘাটে কাজ করে যা পায়, তাই দিয়ে টেনেটুনে চলে তাদের জোড়াতালির সংসার। দুই-তিন দশক ধরেই সরকারী খাস জমি কিংবা পরের পরিত্যক্ত জমিতে ভাসমান হয়ে কোনভাবে মাথা গুঁজে দিন কেটেছে তাদের।
হাত পেতে কিংবা স্বল্প টাকায় মাঠে-ঘাটে কাজ করে নিজের সংসার চালানোই দায়। সেখানে একখণ্ড জমি কিনে সেখানে বাড়ি করা- তা যেন ‘মাটিতে থেকে চাঁদ ছোঁয়া’র মতো অলিক কল্পনা, স্বপ্নাতীত। কিন্তু গত ২৩ জানুয়ারি সেই চাঁদ ছুঁয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বদৌলতে। বিনামূল্যে পেয়েছেন নিজস্ব স্বপ্ননীড়, নিজস্ব ঠিকানা। বিনামূল্যে দুই শতাংশ ভূমির মালিকানাসহ পাকা বাড়ির দলিল নিয়ে নিজ স্বপ্ননীড়ে এখন বাস করছেন দিনহীন এসব মানুষরা।
মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে গত ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসঙ্গে ৬৫ হাজার ৪০ জন ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে উপহার দিয়েছেন স্বপ্নের নিজস্ব ঠিকানা। ‘স্বপ্নের স্থায়ী নীড়’ পেয়ে বিশাল প্রাপ্তি, মুখে আনন্দের হাসি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দাশ্রুর পাশাপাশি সারাদেশের ভিক্ষুক, ছিন্নমূল, বিধবা, দিনমজুর, বেদে, দলিত, হরিজন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ যুগ যুগ ধরে ভাসমান জয়ে চলা গৃহহীন-ভূমিহীন ৬৫ হাজার পরিবারের প্রায় তিন লাখ মানুষের সত্যিই এক অন্যরকম দিন কেটেছে সেদিন। যুগের পর যুগ ঠিকানাবিহীন মানুষের স্থায়ী নিবাস প্রাপ্তি উপলক্ষে সারাদেশের উপজেলা প্রান্তগুলোতেও ছিল রীতিমতো উৎসবের আমেজ, দেশজুড়ে বইয়ে গেছে আনন্দধারা। প্রথম পর্যায়ে ৬৫ হাজারের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে সারাদেশের আরও ৫৩ হাজার ৩৪০টি ভূমিহীন-গৃহহীন অসহায় মানুষ বিনামূল্যে পাচ্ছেন একখণ্ড জমির ওপর নির্মিত ‘স্বপ্নের স্থায়ী নীড়, স্বপ্নের নিজস্ব ঠিকানা’। প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আগামী ২০ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে ৫৩ হাজার ৩৪০টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের কাছে দুই শতক জমির নির্মিত পাকা বাড়ির দলিল তুলে দেবেন।
এক সঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পূর্ণ সরকারী খরচে গৃহহীন-ভূমিহীনদের জমি ও গৃহ প্রদানের ঘটনা সারাবিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। শুধু দেশেই নয়, সারাবিশ্বের মধ্যে মানবকল্যাণে এক অনন্য নজির ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষ অর্থাৎ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ গৃহপ্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এসব গৃহ নির্মাণ কাজ।
জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে আর দেশের আরও ৫৩ হাজার ৩৪০ পরিবারের অনেকটাই দূর হচ্ছে তাদের আক্ষেপ। কারণ মাত্র তিনদিন পরই পরই তারা পাচ্ছেন নিজস্ব স্বপ্ননীড়, নিজস্ব ঠিকানা। সবার সামনে এখন বিনামূল্যে দুই শতাংশ ভূমির মালিকানাসহ পাকা বাড়ি পাওয়ার স্বপ্ন। এমন প্রাপ্তির আনন্দ-উচ্ছ্বাস এখন দিনহীন লাখো মানুষের চোখে-মুখে। গৃহহীনরা তাদের স্বপ্নের পূর্ণতা পাওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
এটি কোন গল্প বা স্বপ্ন নয়। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ বাস্তবতার চিত্র। পৃথিবীর অর্থনৈতিক বড় ধনী দেশগুলো যেটি এতদিন করতে পারেনি, সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন, তিনি আর কেউ নন। তিনি হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনি প্রায় পৌনে দুই লাখ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারী খরচে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপহার দেবেন ‘স্বপ্নের নীড়’, দুই শতক জমির মালিকানাসহ সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের পাকা বাড়ির স্থায়ী ঠিকানা।