সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী আর নেই

25

কাজিরবাজার ডেস্ক :
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই বিশ্বের সামনে কূটনীতিবিদ হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (৭৫) আর নেই। সোমবার সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক এই কূটনীতিকের মৃত্যু হয়েছে বলে আইএসপিআরের পরিচালক আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ জানান। সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এই কূটনীতিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন।
সরকারী চাকরি থেকে অবসরের পরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দিল্লীতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন মোয়াজ্জেম আলী। নবেম্বরে মেয়াদ শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন। লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাতিজা সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর জন্ম ১৯৪৪ সালে সিলেটে। বড় ভাই এসএম আলী ছিলেন ডেইলি স্টারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী মোয়াজ্জেম আলী ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে ওয়াশিংটনে কর্মরত অবস্থায় বিদ্রোহ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে ভুটান, ইরান ও ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন মোয়াজ্জেম আলী। ওয়াশিংটন, ওয়ারশ, জেদ্দার পাশাপাশি নয়া দিল্লী মিশনেও তিনি কাজ করেছেন। সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে ইউনেস্কোর কাছে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস খসড়া বিষয়ের প্রতিবেদন দিয়ে ভাষা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে ভূমিকা রাখেন।
পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ সালে অবসরে যান পেশাদার এই কূটনীতিক। পরে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার তাকে কূটনৈতিক দায়িত্বে ফিরিয়ে এনে হাইকমিশনার করে দিল্লী পাঠায়। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ওই দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। এদিকে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দক্ষ কূটনীতিককে হারাল। তার মৃত্যু দেশের কূটনৈতিক জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জাতি তাকে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রপতি মোয়াজ্জেম আলীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। মোয়াজ্জেম আলী ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস চালু করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, মোয়াজ্জেম আলীর মতো কূটনীতিবিদের মৃত্যুতে দেশ ও জাতির এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। প্রধানমন্ত্রী, তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মোয়াজ্জেম আলীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর মরদেহ দেখতে বিকেলে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সমন্বিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী দুপুর দুইটার দিকে সিএমএইচে যান। সেখানে তিনি মোয়াজ্জেম আলীর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত¦না দেন। প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোহাম্মদ নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান ছিলেন।