স্টাফ রিপোর্টার :
সাদা পোষাকে এক সাংবাদিককে গ্রেফতারের ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন সিলেটের ৫৬ সাংবাদিক। গতকাল রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে এসএমপি কোতোয়ালি থানায় হাজির এ জিডি করেন তারা।
ডায়রিকারী সকলেই বিভিন্ন টেলিভেশন চ্যানেলের সিলেট অফিসে কর্মরত সাংবাদিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসেমাসিয়েশন (ইমজা), সিলেট-এর সদস্য।
ডায়রিতে সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ও ইমজা’র সাবেক সভাপতি মঈনুল হক বুলবুলকে সাদা পোশাকে অস্ত্রধারী একদল লোক তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে বুলবুলের পরিবার ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় যোগাযোগ করেও কোনও তথ্য পাননি। তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই ঘন্টা পর বুলবুলকে গ্রেফতারের কথা জানায় সিলেটের কানাইঘাট থানা পুলিশ। তারা আরও বলেন, সাদা পোষাকে গ্রেফতারের জন্য উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বুলবুলকে আটকের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এমনকি বুলবুলকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত কয়েকজন আটককারীদের পরিচয় জানতে চাইলেও পরিচয় দেননি তারা। সিনিয়র সাংবাদিক বুলবুলকে এভাবে পরিচয় গোপন করে তুলে নিয়ে সিলেট জেলা পুলিশ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে দাবি করে সাধারণ ডায়রিতে উল্লেখ করা হয়, পরিচয় গোপন করে এভাবে আটক ও এরপর দুই ঘন্টা পুলিশের লুকোচুরি খেলা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। তাই, আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
সাধারণ ডায়রি করার বিষয়ে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেটের সভাপতি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী বলেন, অভিযোগ থাকলে যে কাউকে গ্রেফতারের অধিকার পুলিশের রয়েছে। কিন্তু যে কায়দায় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে তাতে আমরা শঙ্কিত। এই শঙ্কা থেকেই আজ আমরা ৫৬ জন নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়রি করেছি। তিনি বলেন, প্রথমে পুলিশ জিডি নিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে তা গ্রহণ করে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বলেন, সাংবাদিকদের সাধারন ডায়রি গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







