মালয়েশিয়ায় শ্রম বাজার

42

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মন্ত্রিপর্যায়ে দু’দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের দু’দফা বৈঠকের পর শ্রমবাজার নিয়ে জটিলতা ও উদ্বেগের অবসান ঘটতে চলছে। ফলপ্রসূ আলাপ-আলোচনার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়া সফররত ৯ সদস্যের দলটি বৃহস্পতিবার ফিরে এসেছে ঢাকায়। এখন থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতেই বাংলাদেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি শ্রমিক তথা কর্মী পাঠাতে পারবে মালয়েশিয়ায়। এর পাশাপাশি দেশটিতে বসবাসরত ৫ লাখেরও বেশি অবৈধ কর্মীকে বৈধতা দানেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। সে দেশের সরকার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
উল্লেখ্য, উচ্চপর্যায়ে আলাপ-আলোচনার পর ২০১৬ সালে পুরনো পদ্ধতি (জিটুজি) বাদ দিয়ে মাত্র ১০টি এজেন্সিকে সে দেশে অভিবাসন শ্রমিক পাঠাতে নির্ধারণ করে দেয় মালয়েশীয় সরকার। সংঘবদ্ধ এই চক্রটি ইতোমধ্যে লক্ষাধিক কর্মীকে পাঠিয়েছে সে দেশে। এর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রীর মতে, এটি নিছক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, যেটি একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে দু’দেশের কতিপয় ব্যবসায়ী। নতুন চুক্তির ফলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি সে দেশে লোক পাঠানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। আগে যেখানে মালয়েশিয়া যেতে প্রত্যেক বাংলাদেশীর কাছ থেকে নিবন্ধন থেকে পরিবহন বাবদ মাত্র দুই হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশী ৪২ হাজার ১৮১ টাকা) নেয়া হতো, সেখানে ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেটটি মাথাপিছু ২০ হাজার রিঙ্গিত (৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা) আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীদের কাছ থেকে মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে এই চক্রটি ইতোমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২১৮ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের একটি অংশ দুই দেশের রাজনীতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশকে মানব পাচারের এই আর্থিক নিপীড়নের পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে মন্ত্রীর তরফ থেকে।
বাংলাদেশী শ্রমজীবীদের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। তদুপরি শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের আধিপত্য কাম্য নয় কোন অবস্থাতেই।
তাই বিদেশে শ্রম বাজার প্রসারিত হোক। ইহাই সকলের কাম্য।