স্টাফ রিপোর্টার :
একাত্তরের অগ্নিকন্যা বীরপ্রতীক কাকন বিবি ওরফে নূরজাহান বেগমের গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুল হক চৌধুরী ‘বীরঙ্গনা কাঁকন বিবির লাশ তার মেয়ে সখিনা বিবির কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জেরর দোয়ারাবাজার উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন তারই স্বজনরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা লক্ষীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের মাঠে জানাযা ও দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল ৪টায় জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে কাকন বিবিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
জানাযায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান, দোয়ারা বাজার উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতিক, দোয়ারা বাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ, দোয়ারা বাজার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালেহা বেগম, সহকারি পুলিশ সুপার দোলন মিয়া, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ খসরু, আব্দুল মজিদ বীর প্রতীক, আব্দুল হালিম বীর প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধো ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নূরুল মোমেন, লক্ষীপুর ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল হক, বোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী, নোয়ারাই ইউপি চেয়ারম্যান পীর আব্দেখালিক রাজা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান মাস্টার, দোয়ারা বাজার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সফর আলী প্রমুখ। এ ছাড়াও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সহ হাজার হাজার মানুষ নামাজের জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন।
এর আগে কাকন বিবির মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যানগণসহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
এ সময় জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম গণ মাধ্যমকে জানান, স্বাধীনতার মাসে আমরা একজন খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছি। তার খেতাবটি গেজেট আকারে হয়নি। গেজেট আকারে প্রকাশ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তার অবস্থা আশংকাজনক শোনার পর আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবগত করা হয়েছে।







