কোম্পানীগঞ্জ থেকে অপহৃত শিশু কানাইঘাটে উদ্ধার, অপহরক গ্রেফতার

0
8

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার টুকের বাজার থেকে অপহরণের ১ দিন পর ৩ বছরের শিশু আবুল কাশেম কে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫ টার দিকে কানাইঘাট থেকে স্থানীয় ইউ.পি চেয়ারম্যানের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে র‌্যাব-৯ শিশুটিকে উদ্ধার ও অপহরণকারী আব্দুল্লাহ কে গ্রেফতার করেছে। জানা যায় কোম্পানীগঞ্জ টুকের বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের বিষ্কুট ফ্যাক্টরিতে কানাইঘাট ঝিংগাবাড়ী ইউপির আগতালুক গ্রামের নুরুল হকের পুত্র আব্দুল্লাহ (২৫) ৩ মাস চাকুরী করেছে ছিল। তার অভিযোগ বেতনের টাকা না পেয়ে কিছুদিন পূর্বে বিস্কুট ফ্যাক্টরী থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বাজারের অন্য একটি ফ্যাক্টরীতে চাকুরী নেয়। অপহরণকারী আব্দুল্লাহ জানায় ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের কাছ থেকে চাকুরীর টাকা না পেয়ে তার ৩ বছরের শিশুপুত্র আবুল কাশেম কে গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কৌশলে অপহরণ করে তার নিজ বাড়ী কানাইঘাটের আগতালুক গ্রামে নিয়ে আসে। শিশু আবুল কাশেমের কোন সন্ধান না পেয়ে ঐ দিন তাৎক্ষণিক তার পিতা আব্দুল জলিল কোম্পানীগঞ্জ থানায় ছেলে নিখোঁেজর একটি সাধারন ডায়রী করেন। পুলিশের পরামর্শে শিশুটির পিতা আব্দুল জলিল র‌্যাব-৯ এ শরণাপন্ন হলে র‌্যাবের একটি টিম শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য অভিযানে নামেন। একপর্যায়ে চাকুরীর টাকা উদ্ধার করার জন্য অপহরণকারী আব্দুল্লাহ শিশু আবুল কাশেমের মামাকে ফোন দিয়ে বলে তোমার ভাগ্না আমার বাড়ীতে রয়েছে। দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করে তাকে ঝিংগাবাড়ী ইউ.পি কার্যালয় থেকে নিয়ে যাও। এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে শিশুটির স্বজনরা কানাইঘাটে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ছুটে এসে ঝিংগাবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিনের শরণাপন্ন হলে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য বদরুল ইসলাম ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অপহরণকারী আব্দুল্লাহর বাড়ী থেকে শিশু আবুল কাশেমকে উদ্ধার ও আব্দুল্লাহকে আটক করে ইউ.পি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা অনুমান ৬টার দিকে র‌্যাব-৯ এর এএসপি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি টিম ইউ.পি কার্যালয় উপস্থিত হয়ে শিশু আবুল কাশেমকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে এবং অপহরনকারী আব্দুল্লাহ কে গ্রেফতার করে নিয়ে যান। র‌্যাবের এএসপি আফজল হোসেন জানান শিশুটির অপহরণের সংবাদ তাৎক্ষণিক পাওয়ার পর তাকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীকে গ্রেফতার করতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেন র‌্যাব। শিশু আবুল কাশেম কে অপহরণের পর শিশুটির পিতা আব্দুল জলিলের কাছে অপহরণকারী আব্দুল্লাহ দুই দফায় প্রথমে ৫ লাখ টাকা পরবর্তীতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে বলে র‌্যাব দাবী করেছে। অপরদিকে অপহরণকারী আব্দুল্লাহ জানায় সে আব্দুল জলিলের বিস্কুট ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করত। ৩ মাসের বেতনের ২৪ হাজার টাকা না পেয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য তার শিশু ছেলে আবুল কাশেমকে অপহরণ করে তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে এসে ছিল। তবে বিস্কুট ফ্যাক্টরীর মালিক আব্দুল জলিল জানান তার ছেলের অপহরণকারী আব্দুল্লাহ তার ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করত। সে ৩৬ শ টাকা তার কাছে পাবে। শিশু ছেলেকে ফিরে পেয়ে তিনি র‌্যাব-৯ ঝিংগাবাড়ী ইউ.পির চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।