ওসমানীনগরে খুন হওয়া বৃদ্ধের দাফন সম্পন্ন, পরিবারে শোকের মাতম

0
11

ওসমানীনগর থেকে সংবাদদাতা :
ওসমানীনগরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নির্মম হত্যার শিকার ইলিয়াছ মিয়া (৬০) এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ নিজ বাড়িতে আসলে রাত ৭টায় জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। সিলেট থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে বাড়িতে পৌছার আগেই ঘাতকদের ধারালো ছুরিকাঘাতে নির্মম খুন হওয়ার ঘটনায় নিহত পরিবার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। পরিবারের লোকজন বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। কারও সাথে কোন কথা বলছেন না। সবার মুখে একটিই বাক্য তিনি খুব ভাল মানুষ ছিলেন। ঘাতকরা এভাবে তার প্রাণ কেড়ে নিলো কেন?। এ দিকে ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা রেকর্ড হয়নি এবং ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটকেরও খবর পাওয়া যায়নি।
নিহত ইলিয়াছ মিয়া উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের মৃত আইন উল্যার ছেলে ও দয়ামীর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মঈনুদ্দিন আহমদ লেচুর বড় ভাই। আহত চালক কামরুজ্জামান সিলেট শহরস্থ তোফখানা এলাকার আজম খানের ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিলেট সীল ভিউ হোটেলে চাকরীরত ইলিয়াছ মিয়া হোটেলের প্রাইভেটকার নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে এক জরুরী কাজে বাড়িতে আসছিলেন। রাত প্রায় ১টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কুরুয়া প্রেট্রোল পাম্প সংলগ্ন মনির মিয়ার চায়ের দোকানে পান খেতে নামে তাকে বহনকারী প্রাইভেটকার চালক কামরুজ্জামান, চালককে নামতে দেকে তিনিও কার থেকে নেমে আসেন। এসময় নিজ কুরুয়া গ্রামের শহীদ উল্যার ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য আনহার আলী, বশির ও আনহার আলীর তিন শালাসহ কয়েকজন দৃর্বৃত্ত হারালো অস্ত্র দিয়ে চালক কামরুজ্জামানের উপর হামলা চালায়। চালক কামরুজ্জামানকে বাঁচাতে বৃদ্ধ ইলিয়াছ মিয়া হামলাকারীদের বাধা দিলে হামলাকারীরা ইলিয়াছ মিয়ার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইলিয়াছ মিয়াও কামরুজ্জামানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইলিয়াছ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইলিয়াছ আলীর ছোট ভাই ইউপি সদস্য মঈন উদ্দিন আহমদ লেচু জানান, আমার ভাইকে হারিয়ে আমরা পরিবারের সবাই দিশেহারা হয়ে পরেছি। কি দোষ ছিল আমার বৃদ্ধ ভাইয়ের। সন্ত্রাসীরা কেন এভাবে তার প্রাণ কেড়ে নিলো। এসব কথা বলছেন আর বিলাপ করছেন। তিনি তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহব্বান জানান।
ওসমানীনগর থানার অফিসার মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতদের পরিবারের লোকজনের পক্ষ থেকে এখনও লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় মামলা রেকর্ডে বিলম্ব হচ্ছে।