এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ॥ জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলেও কোন আফসোস নেই

0
5

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোট না দিলেও কোনো আক্ষেপ নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন, তার অনেকটাই পূরণ হয়েছে। এখন জনগণের রায়ের দিকে তাকিয়ে তিনি।
রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এসএসএফ প্রতিষ্ঠা, বাহিনীর সদস্যদের জন্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে তার সরকারের আমলে নেয়া নানা উদ্যোগ এবং সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, তার বাবা এই দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি চেষ্টা করে গেছেন দেশকে উন্নত করতে। কিন্তু তাকে হত্যার পর দেশকে পিছিয়ে দেয়া হয়। আর বাবার অসমাপ্ত কাজ তিনি শেষ করার চেষ্টা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে নানা কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আজ এসএসএফের যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসেছি, সেটা বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ বছর। জানি না ভবিষ্যতে আবার দেখা হবে কিনা, এটা নির্ভর করে জনগণের ওপর। বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই, এটা নিয়ে কোনো আফসোস নেই।’
তবে সরকারে থেকে যা করার পরিকল্পনা ছিল তার অনেকটাই পূরণ হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের যেটুকু লক্ষ্য ছিল সেটুকু আমরা করতে পেরেছি। এখন আমরা উন্নয়নশীল দেশ। আমরা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।’
‘৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে আমরা এখন আমরা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে সক্ষম হয়েছি। সকলের বেতন ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে।’
দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে আমার কোনো বিলাসবহুল জীবন যাপন, অথবা কোনো কিছু চাওয়া পাওয়া আমার নেই। আমার একটাই চাওয়া দেশের মানুষের উন্নতি, মানুষের কল্যাণ। মানুষের জন্যই আমার কাজ।’
‘যে মানুষের জন্য কাজ করি সে মানুষগুলো থেকে যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই তাহলে কিন্তু আমাদের জীবনটা অর্থহীন হয়ে যাবে। এই যোগাযোগটা যেন থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফের ভূমিকার প্রশংসা করেও জনগণকে প্রাধান্য দেয়ার কথাটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। বলেন, তিনি জনগণের জন্য রাজনীতি করেন, তাই তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে চান না।
বাংলাদেশের রাজনীতির ঝুঁকি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জন্য হত্যা, ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি, ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা পাশাপাশি স্বাধীনতা বিরোধীদের অপতৎপরতা, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদী তৎপরতা যা সব সময় একটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করে।’
‘আমরা মনে করি এটা একটা চ্যালেঞ্জ যেটা বার বার মোকাবেলা করে আমাদের চলতে হচ্ছে।’
‘এছাড়াও আরেকটি জিনিস যুগের পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্বাবন হচ্ছে। এই প্রযুক্তি যেমন মানুষের কল্যাণের কাজে লাগছে সেই সাথে সাথে ধ্বংসের কাজেও ব্যবহার হয়। সেদিক থেকে নিরাপত্তা প্রদান সব সময় একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।’
একজন মা হিসেবে এসএসফের সদস্যদের সন্তানের মতো দেখেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই এই দায়িত্ববোধটা যেন সব সময় থাকে।’
‘আমি বিশ্বাস করি সুযোগ্য নেতৃত্ব, সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং এই বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যসের পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে এসএসএস এর উত্তরোত্তার উন্নতি অব্যহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএসএফ এর মহাপরিচালক সফিকুর রহমান। মঞ্চে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিন বাহিনী প্রধানসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।