আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো….

0
4

জেড.এম. শামসুল :
একুশ আমাদের চেতনায়, ভাবনায় ও স্বপ্নের সাথে মিশে আছে। বাংলার প্রতিটি মানুষের জীবনে একুশের প্রভাব অপরিসীম। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসাবে একুশ পেয়েছি, তাদের প্রতিটি মুহূর্তে শ্রদ্ধা করি। তাদের আত্মত্যাগের কথা আজও ভুলতে পারিনি। কিন্তু আজও সর্বত্র এ ভাষা সংগ্রামের মূল ভিত্তিতে পৌঁছতে পারিনি। ভাষা প্রতিষ্ঠা করতে সূদুর ব্রিটিশ বেনিয়ার যুগ থেকে সচেতন বাঙালি সমাজ আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। ভারতবর্ষের অন্যান্য ভাষার সাথে মাতৃভাষা বাংলাকে জাতীয় ভাষার অধিকার আদায়ের জন্যে। অনেকের মতে ভারতবর্ষে প্রথমতঃ ১৯০০ সাল থেকে বাংলাভাষা রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা আদায়ের প্রস্তাব উত্থাপন শুরু হয়। তৎকালীন উর্দ্দু বর্ণমালার পরিবর্তে দেবনাগরী প্রবর্তন করতে চাইলে এ দেশের মুসলমান বাংলা ভাষাভাষিরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তীব্র প্রতিবাদের মুখে এ উপমহাদেশে একটি সাধারণ ভাষা প্রবর্তনের গুঞ্জন শুরু হয়। এছাড়া হিন্দু জাতীয়তার কথা উল্লেখ করে হিন্দী ভাষার পক্ষে জনমত সৃষ্টি হতে থাকে। ফলে মুসলমানরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। ১৯১১ সালে একটি শিক্ষা সম্মেলনে নবাব নওয়াব আলী প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষায় রূপান্তরিত করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। শুরু হয় বিতর্ক। এ বিতর্কে হিন্দু মুসলমান দু’দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল থেকে বাংলাভাষা রাষ্ট্রভাষা করার দাবী জোরদার হতে থাকে। বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রীয়ভাষা করার জন্য ১৯২০ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে এক সভায় মূল প্রস্তাব উত্থাপন করেন ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন ও উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক রাষ্ট্রভাষা গঠনের সংগ্রাম বৃদ্ধি পায়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ঢাকা ও কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ গঠনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবী জোরদার হতে থাকে। অব্যাহত থাকে ভাষা আন্দোলনের সকল কর্মসূচী। দেশ বিভক্ত হওয়ার সাথে সাথেই ভাষা আন্দোলনের অগ্রযাত্রা আরো জোরদার হতে থাকে। ভাষা আন্দোলনকারীদেরকে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। আটক ভাষাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ। সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন এর সাথে সাক্ষাৎ করে ভাষা আন্দোলনকারী বন্দীদের মুক্তি দাবী করেন এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার পক্ষে অব্যাহত আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্র“য়ারী পূর্ব বাংলায় স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হয়। ঐদিন ভাষা আন্দোলনকারী বাংলার ছাত্র জনতা ১১ মার্চ সর্বত্র হরতাল আহবান করে। হরতাল ও ছাত্র জনতার আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। শুরু হয় রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এ আন্দোলন গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে।