শোকাহত আগষ্ট

0
11

কাজিরবাজার ডেস্ক :
‘কাঁদো বাংলার মানুষ কাঁদো/ যদি বাঙালি হও নিঃশব্দে কাছে এসো, আরো কাছে/.. এখানেই শুয়ে আছেন অনন্ত আলোয় নক্ষত্রলোকে/ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান/ মৌমাছির গুঞ্জনের পাখির কাকলিতে করুণ সুর বাজে/ গভীর অরণ্যে পুষ্পের সুগন্ধে/..অনেক রক্তের মূল্যে পাওয়া এ স্বাধীনতা/ এখানে ঘুমিয়ে আছে, এইখানে দাঁড়াও শ্রদ্ধায়..।’ কবি রবীন্দ্র গোপ তাঁর ‘কাঁদো বাংলার মানুষ কাঁদো’ কবিতায় এভাবেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
রক্তাক্ত-কলঙ্কিত আগষ্টের সূচনা দিন বুধবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী ছিল শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ। সর্বত্র শোকের কালো পতাকা। হাতে হাতে জাতির জনকের ছবি। বুকে কালো ব্যাজ। স্বেচ্ছায় রক্তদান করে স্বাধীনতার স্থপতি ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা। আলোক শিখা প্রজ্বালন করে দৃপ্ত শপথে পলাতক খুনী, যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার-আলবদরদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা-ধিক্কার, অসংখ্য শোক মিছিলের মাধ্যমে পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর এবং খুনীদের মদদদাতাদেরও বিচারের আওতায় আনার সোচ্চার দাবি।
আওয়ামী লীগসহ অগণিত সংগঠন নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করেছে শোকের কর্মসূচীর প্রথম দিন। ‘দ্রোহের আগুনে পুড়ে হোক ছারখার, যতসব বঙ্গবন্ধুর খুনী-যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার’Ñ এই স্লোগানে আগস্টের প্রথম প্রহর ১২টা ১ মিনিটে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে হাজারো মোমবাতি প্রজ্বালন, আলোর মিছিলের মাধ্যমে শোকের মাসব্যাপী কর্মসূচীর সূচনা করে আওয়ামী লীগসহ তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বের করা হয় আলোর মিছিল। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর জঙ্গি-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ গঠনের দৃপ্ত শপথে হাজারো নেতাকর্মী প্রজ্বলিত আলোক শিখা নিয়ে মিছিলও করেছে। অসংখ্য সংগঠন প্রথম প্রহরেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আগষ্টের প্রথম দিন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে কৃষক লীগ। আর এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। আলোচনা সভার পর কৃষক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজের দেহ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানিয়ে এক ব্যাগ করে রক্তদান করেন।
শোকাবহ ১৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ গৃহীত দু’দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী ভবনসহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানম-ি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
পরে ঢাকার বনানী কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং দোয়া করবেন। সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া সেখানে ফাতেহা পাঠ, সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সমাধিস্থলে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৫ আগষ্ট উপলক্ষে শোক সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে সভাপতির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।