যে ভাবে দেয়া হয় ফাঁসি ॥ প্রস্তুতি আছে, ফাঁসির দিন জল্লাদ ঠিক হবে- জেলার

0
11

kamruz_42736_0কাজিরবাজার ডেস্ক :
মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরের কোনও ধরনের আদেশ এখনো পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলম।
গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেশের একটি আধুনিক কারাগার। এখানে ফাঁসি দেওয়ার সকল প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া থাকে।
তিনি বলেন, কোনও আসামীর ফাঁসির রায় যে দিন কার্যকর হবে ওই দিন সন্ধ্যায় জল্লাদ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা সাধারণত জল্লাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর একটি রায় কার্যকর করলে তাদের সাজা কিছুটা কমে আসে।
যদি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা জল্লাদের দায়িত্ব পালন করতে রাজি না হয় সেক্ষেত্রে কাশিমপুর বা অন্য কোনও কারাগার থেকে বন্দিদের এনে জল্লাদ নিয়োগের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।
তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করার সকল প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া থাকে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় বা শর্ট অর্ডার অথবা মৃত্যুদন্ডের পরোয়ানা কোনও লিখিত রায়ই আমরা এখনো পর্যন্ত হাতে পাইনি।
তিনি আরো বলেন, ফাঁসির রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে যে দিন রায় কার্যকর করা হয় ওইদিন সন্ধ্যায় ওই কয়েদিকে জানানো হয়। তাকে বলা হয়- আজ রাতে আপনার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে, আপনার শেষ ইচ্ছা কি?
ওই কয়েদি যদি কারো সাথে সাক্ষাৎ করতে চায় তাহলে সেটি করানো হয়। কিছু খেতে চাইলে তাও খাওয়ানো হয়। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরে শেষ গোসল করানো হয়। ইমাম ডেকে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়। তওবা পড়ানো শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চের দিকে।
সেখানে জমটুপি পরিয়ে হাত-পা বেঁধে মঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে তাকে ফাঁসির রশিতে ঝোলানো হয়। একটি ফাঁসি কার্যকরের সময় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন বলেও জানান তিনি।
৩ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিলের চূড়ান্ত রায়েও ফাঁসির আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। পরের দিন দুপুরে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর পার্ট-২ কারাগার থেকে আনা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
এর আগে, গত বছরের ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।