মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের উদ্যোগে ২য় তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে হযরত মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান ॥ একটি সন্তানকে কোরআনের হাফিজ বানান ॥ অন্তরে আল্লাহর ভীতি থাকলে কেউ পাপ কাজে জড়িত হতে পারে না– আফছর উদ্দিন

0
25

স্টাফ রিপোর্টার :
বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন বন্দর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান বলেছেন, জীবনকে কোরআনের পথে পরিচালিত করতে হবে। কোরআনকে ধারণ করতে পারলে আর কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন একজন মুসলমানের মূল পরিচয় হচ্ছে সে ইমানদার কি না ? নামাজি কি না ? মুত্তাকি কি না ? মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান বলেন মৃত্যুর পর আমাদের সাথে কিছুই যাবে না। শুধু যাবে আমল। এই আমলকে বিবেচনা করেই পরকালে আমরা জান্নাতি না জাহান্নামী তা নির্ধারিত হবে। এ জন্য অন্তরে আল্লাহর ভীতি সৃষ্টি করতে হবে। আল্লাহর ভীতি থাকলে কোন মুসলমান পাপ কাজে জড়িত হতে পারে না। তিনি বলেন সন্তানকে ডাক্তার বানান, ইঞ্জিনিয়ার বানান, ব্যারিষ্টার বানান, কোন সমস্যা নেই। তবে একটি সন্তানকে কোরআনের হাফিজ বানান। যাতে আপনার মৃত্যুর পর পাশে বসে সে কোরআন পড়তে পারে। সন্তান হিসাবে আপনার জানাযা পড়াতে পারে। ভাড়া করে ইমাম ও মাওলানা আনতে হবে না। গতকাল উত্তর কাজিরবাজারস্থ মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের উদ্যোগে ২য় তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে প্রধান অতিথির বয়ান পেশকালে তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী ও দৈনিক কাজিরবাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক আফছর উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন ক্বারী মো: নজরুল ইসলামের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে তাফসির পেশ করেন হযরত মাওলানা হাফিজ মাহবুবুর রহমান, হযরত মাওলানা শেখ আব্দুল হক, হযরত মাওলানা শফিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল করিম। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী ও দৈনিক কাজিরবাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক আফছর উদ্দিন বলেন কাজিরবাজার ও তোপখানা এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে এলাকার যুব সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই তাফসিরুল কোরআন মাহফিল নি:সন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিনি বলেন, এ তাফসির মাহফিলের মধ্যে দিয়ে আমরা যে জ্ঞান অর্জন করলাম তা নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করতে হবে। তিনি বলেন আমাদের প্রতিটি কাজে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। আর আল্লাহকে স্মরণে রাখতে পারলে শুধু মুসলমান নয় একজন মানুষ হিসাবে কেউ পাপ কাজে জড়িত হতে পারে না। আফছর উদ্দিন বলেন আমাকে চিন্তা করতে হবে আমি যে কাজ করছি তা সঠিক কি না, আমি যা উপার্জন করছি তা হালাল কি না ? আমি যে ব্যয় করছি তা কি আল্লাহ রাস্তায় এবং মানুষের সেবায়? আর এই বিষয়গুলো কেউ দিনে একবার চিন্তা করে কাজ করলে সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার-পাপাচার দূর হয়ে যাবে। তিনি বলেন কোরআন শুধু মুখস্ত করলেই হবে না এর অর্থ বুঝে বাস্তব জীবনে এর মর্মার্থ প্রতিফলিত করতে হবে। আফছর উদ্দিন বলেন মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদ মকন মিয়া সাহেব এই এলাকার ব্যবসায়ী ও মুসল্লীদের কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রথম দিকে অত্যন্ত ছোট পরিসরে মসজিদটির যাত্রা শুরু হলেও আস্তে আস্তে তা আজকের অবস্থানে এসে পৌছেছে। তিনি বলেন এক সময় কিছু লোক এই মসজিদটি তার নামে নাম না করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। যদিও তারা ক্ষুদ্র একটি অংশ। এই বিষয়টি মকন মিয়া সাহেব জানতে পেরে বলেছিলেন নাম বড় কথা নয় মসজিদে মুসল্লীরা নামাজ পড়ছেন কি না এটাই হচ্ছে বড় কথা। তবে পরবর্তীতে বেশির ভাগ মানুষই মসজিদটি মকন মিয়া সাহেবের নামে করার সিদ্ধান্ত নেন। আফছর উদ্দিন বলেন মকন মিয়া সাহেবের মৃত্যুর পর মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব আমার উপর দেয়া হয়। তিনি বলেন সত্যিকার অর্থে এ দায়িত্ব কেউ তার উপর দেয়নি এটি আসলে আল্লাহপাকই তার পক্ষ থেকে তার ঘর পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর অনেকের সাহায্য সহযোগিতায় মসজিদটি আজকে ৩য় তলায় রূপ নিয়েছে এবং মুসল্লীদের সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী আফছর উদ্দিন বলেন তিনি ঘোষণা দিয়েছেন মসজিদের উন্নয়নে যারা সাহায্য করছেন বা করবেন তাদের সাহায্য কৃতজ্ঞ চিত্তে গ্রহণ করা হবে। তবে মসজিদের সব ধরনের উন্নয়নের কাজে তার একক সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে। টাকার অভাবে মসজিদের কোন কাজ আটকে থাকবে না। তিনি বলেন একটি মসজিদ তখনই সুপ্রতিষ্ঠিত হয় যখন মুসল্লীরা ঐ মসজিদে দল বেঁধে নামাজ পড়তে আসেন। তিনি বলেন ইনশাআল্লাহ আল্লাহর হুকুমে মোহাম্মদ মকন জামে মসজিদে দিন দিন মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি ওয়াক্তের জামাতে মুসল্লীদের সংখ্যা ৩য় তলা পর্যন্ত পৌছাচ্ছে। আফছর উদ্দিন বলেন একমাত্র আল্লাহর কুদরত ছাড়া এটি সম্ভব নয়। ওয়াজ মাহফিল শেষে রাত ১টায় আখেরী মোনাজাত ও শিরণী বিতরণের মাধ্যমে দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।