মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে মালয়েশিয়া

0
8

কাজিরবাজার ডেস্ক :
মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির সাজা বাতিল করতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির জ্যেষ্ঠ এক মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
দেশটিতে এই মুহূর্তে ১২০০’র বেশি অপরাধী মৃত্যুদণ্ডের তালিকায় আছে। বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের মুখে দেশটির সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন অনুযায়ী হত্যা, অপহরণ, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক। যা ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।
যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়ামন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও নিশ্চিত করেছেন, মন্ত্রিসভায় ফাঁসির দণ্ড রদ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আশা করছি খুব শিগগির আইনটি সংশোধন করা হবে।’
গোবিন্দ জানান, মালয়েশিয়ার জনগণ মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে। তাই সরকার সর্বোচ্চ শাস্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরকারের মন্ত্রী লিইউ ভুই কিয়ং বলেছেন, বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের শাস্তি স্থগিত ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা এই আইন বাতিল করছি, সেহেতু তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত হবে না।’
আগামী সোমবার আইনটি সংশোধনের জন্য পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।
গত বছরের এপ্রিলে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিক দিয়ে ২৩টি দেশের মধ্যে মালয়েশিয়ার অবস্থান ১০তম।
২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৩৫ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির নিউ স্ট্রেইটস টাইমস পত্রিকা এই তথ্য দিয়েছে।
মালয়েশিয়া ৬০ হাজার বন্দির মধ্যে এক হাজার ২৬৭ জন মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত।
প্রতিবেশী দেশ সিঙ্গাপুরে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ যেমন- হত্যা ও মাদক পাচারের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রাখা হয়েছে।
গত মাসে ২০১৭ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা তথ্য প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ২৩টি দেশে মৃত্যুদণ্ড বহাল আছে। তারমধ্যে চীনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সংস্থাটি বলছে, ২০১৭ সালে ২৩ দেশে ৯৯৩টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে চীনে ‘হাজার হাজার’ মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি অ্যামনেস্টি। চীনে মৃত্যুদণ্ডের তথ্যকে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য মনে করে।
চীন ছাড়া ২০১৭ সালে ইরান, সৌদি আরব, ইরাক এবং পাকিস্তানে ৮৪ শতাংশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে অ্যামনেস্টি জানাচ্ছে।