বিশ্ব মানের পর্যটন নগরী গড়তে ১৩ দফা ইশতেহার আরিফের

0
5

স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটকে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ১৩ দফা ইশতেহার দিলেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে নগরীর শাহী ঈদগাহ প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
ইশতেহারে আরিফ বিগত দিনে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস্তবায়নকরা কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তাতে বলা হয়, যুগ যুগ থেকে চলে আসা জলাবদ্ধতার দুঃস্বপ্ন অবসান, বইছে স্বস্তির নিশ্বাস। রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যখন জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে আজও মুক্ত হতে পারেনি। অথচ মাত্র ৫ বছরেই জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে প্রায় মুক্ত সিলেট নগর। নগরের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান ৯টি প্রধান ছড়া দখলমুক্ত এবং খনন করে নাগরিকদের বিনোদনে সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। আগামীতেও ছড়া, খাল উদ্ধার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নগরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা হবে। এ সমস্য উত্তরণে সুরমা নদী খনন জরুরি।
হকারদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো লালদিঘী মার্কেট ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখানে নতুন পরিসরে মার্কেট নির্মাণ করে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে।
ইতিমধ্যে হকারদের তালিকা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে তাদের স্থায়ী ঠিকানা হবে। নির্বিঘেœ তারা ব্যবসা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
সিলেট নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে পরিক্ষামূলকভাবে ওয়াইফাই চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট প্রোভাইড কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে এ কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবেন তিনি।
যানজট নিরসনে কতটা সফল তা সবার বিচার বিবেচনার উপর ছেড়ে দিয়ে আরিফ ইশতেহারে বলেন, যানজট নিরসনের জন্য সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণ ও টাউন বাস, প্রাইভেট গাড়ির আধিক্য কমানোর লক্ষ্যে স্কুলভিত্তিক বাস চালু করা এবং কদমতলী বাস ও ট্রাক টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করায় দূষণ কমেছে উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়, আবর্জনা যাতে খোলা স্থানে না রাখতে হয়, সে জন্য ৫টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করা হবে। তরল, ক্লিনিক্যাল ও মেডিকেল বর্জ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাম্পিংয়ে অটোক্ল্যাপ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে।
বস্তিবাসীদের জন্য স্যানিটারি কক্ষ, থাকবে আরও নতুন সুবিধি। ১৮টি স্যানেটারি কক্ষ নির্মাণ কার্যক্রম নগরের প্রতিটি বস্তিতে বাস্তাবায়ন করা হবে।
বস্তিবাসীদের চিকিৎসা সেবা স্বাবলম্বী হওয়ার কর্মসূচি চালুর জন্য সরকারি, বেসরকারি প্রয়োজনে বিদেশি দাতাদের সাহায্যে ফান্ড গঠন করা হবে। তাদের জন্য চালু করা হবে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা।
মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত তথা বস্তিবাসীদের জন্য বৃদ্ধি করা হবে স্যাটেলাইট ক্লিনিক। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানেক্টিং ক্লাস রুম চালু করা হবে।
বিশুদ্ধ পানির চাহিদা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। অতিরিক্ত পানির চাহিদা পূরণে নগরের বাইরে সারি নদী থেকে ৫ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে।
তাছাড়া শিক্ষিত বেকারদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, নারীদের জন্য পৃথক ইনস্টিটিউট ও টাউনবাস সার্ভিস, কর্মমজীবী নারীদের সুবিধার জন্য ডে কেয়ার চালু করা হবে। এছাড়া করা হবে লার্নিং রিসোর্স সেন্টার। যেখানে থাকবে ই-লাইব্রেরি, কম্পিউটার সুবিধা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ক্রেডিট টান্সফার ইত্যাদি বিষয়ে যাবতীয় তথ্য থাকবে। সেই সঙ্গে ওয়ার্ডভিত্তিক পাঠাগার ও ফরেন ল্যাংগুয়েজ কোর্স চালু করা।
নগরের ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড পিছিয়ে পড়া। এ তিন ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ লাইন চালু, সড়ক প্রশস্থ, ডিভাইডার স্থাপন ছড়া খাল উদ্ধার করা হবে।
আগামীর সিলেট গড়তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তথা ৩০ বছর পর বা ৫০ বছর পর সিলেট কিভাবে দেখতে চাই। সে চিন্তা থেকে সিসিক সম্প্রসারণ করে কাজ শুরু করা জরুরি। নতুন এ সিলেটে থাকবে মেট্রোরেল কিংবা টিউব থাকবে না। করা হবে বহুতল বিশিষ্ট পার্কিং, স্থাপন করা হবে সিলেট টাওয়ার যেখানে দাঁড়িয়ে সবুজ প্রকৃতি অবলোকন করতে পারবেন।
এছাড়া রাজস্ব বৃদ্ধিতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিবেকবানদের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি ইশতেহারে উল্লেখ করেন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সিসিকে আয় ছিল ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ সালে এ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।