ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত

0
6

Kamruzzama_banglanews24_2307156681কাজিরবাজার ডেস্ক :
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
আইনমন্ত্রী বলেন, রায় ঘোষণার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষকে আপিল খারিজ এবং ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার ব্যাপারে জানানো হয়েছে। যে মুহূর্ত থেকে তিনি তার মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জেনেছেন, তখন থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার জন্য সাত দিনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো আইনেই পূর্ণাঙ্গ রায় পেতে হবে এমন বলা নেই। এ ছাড়া রিভিউর ব্যাপারে যেহেতু আপিল বিভাগের একটি রায় রয়েছে (কাদের মোল্লার মামলা) সেহেতু আমরা বলতে চাই রিভিউর কোনো সুযোগ নেই।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জেলকোড না মানলেও সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের অধিকারবলে কামারুজ্জামানকে প্রাণ ভিক্ষার জন্য সময় দিতে হবে। জেল কর্তৃপক্ষকে ফাঁসির রায় কার্যকরের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
এর আগে বিকেলে নিজ কার্যালয়ে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের বিষয়ে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনালের মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে জেলকোড প্রযোজ্য হবে না। আর পূর্ণাঙ্গ রায় ছাড়া শর্ট জাজমেন্ট দিয়ে রায় কার্যকর করা যাবে না, সেটাও আমি মনে করি না। তাই তার দণ্ড কার্যকর করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তিনি বলেন, কামারুজ্জামান চাইলে তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। কিন্তু রিভিউয়ের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যারা রিভিউয়ের কথা বলে আমি তাদের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ পড়ার কথা বলব।
দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে আইনমন্ত্রী গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে আইনমন্ত্রী সচিবালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের সঙ্গে। দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ বৈঠক চলে।
কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর বিষয়ে দুপর ১টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হলে তা বেআইনি হবে। শুধু শোনা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হয়েছে। আর তা ছাড়া আপিল বিভাগের বিচারপতিরাও দ্বিধাবিভক্ত রায় দিয়েছেন। এজন্য আমরা আশা করি রিভিউ করা হলে কামারুজ্জামান ন্যায় বিচার পাবেন। তা ছাড়া সংবিধানের ১০৫ ধারা অনুসারে রিভিউ সাংবিধানিক অধিকার। তবে ১০৫ ধারা প্রযোজ্য না হলেও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালত রিভিউয়ের সুযোগ দিতে পারেন।
এদিকে বুধবার সকালেই নিয়মিত সাক্ষাতের অংশ হিসেবে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেন স্ত্রী-পুত্রসহ তার পরিবারের সদস্যরা। কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এই দেখাকে ‘শেষ’ ভাবছেন না বলে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট থেকে ১১টা ৮ মিনিট পর্যন্ত আধা ঘণ্টার জন্য দেখা করার সুযোগ দেয়া হয় তাদের।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে একাত্তরে আলবদর বাহিনীর ময়মনসিংহ জেলা শাখা প্রধান কামারুজ্জামানকে গত বছরের ৯ মে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার আপিল বিভাগ সেই রায় বহাল রাখার আদেশ দেন।