নগরীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ, সৎ পিতা গ্রেফতার

0
9

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী (১০) ২ মাস ধরে ধর্ষণের শিকারের দায়ে শিশুটির সৎ পিতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে রায়নগর দর্জিপাড়া এলাকা থেকে শিশুটির সৎ পিতাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, শিশুটির মা গোলাপগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত আছেন। শিশুটির মা প্রথমে বরিশালের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। সেই স্বামীর ঘরেই জন্ম নেয় শিশুটি। শিশুটির জন্মের পর ছাড়াছাড়ি হয় এই দম্পতির। পরবর্তীতে শিশুটির মা পুনরায় বগুড়া জেলার গাবতলি থানার সরধনকুঠি গ্রামের অলি মন্ডলের ছেলে পিটু মিয়া (২৮)কে বিয়ে করেন। ২০১৭ সালে এই সৎ বাবার কাছে রেখে সৌদি আরবে যান তার মা। সে সময় মেয়েকে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ভর্তি করিয়ে দেন তিনি। এরপর থেকে নগরীর দর্জিপাড়া এলাকায় এই শিশু কন্যাকে নিয়েই বসবাস করে সৎ পিতা পিটু মিয়া। কিন্তু বিগত দুই মাস পূর্ব থেকে ঐ শিশুকে জোরপূর্বক প্রতিদিন রাত্রে ধর্ষণ করে পাষণ্ড সৎ পিতা। মেয়েটি এসকল ঘটনা কাউকে বলতে চাইলে তাকে প্রতিনিয়তই মারপিট করতো তার সৎ পিতা। শুক্রবার রাতেও মেয়েটিকে কয়েকবার ধর্ষণ করে পিটু। সকালে শিশুটিকে মারপিট করে গোসল করায় তার পাষণ্ড পিতা। সেই সাথে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য হত্যার হুমকিও দেয়। মারপিটের ভয়ে শিশুটি তার এক বান্ধবীর বাসায় আশ্রয় নিয়ে বান্ধবীর মাকে সব কিছু খুলে বলে। পরবর্তীতে এক সাংবাদিকের সাহায্যে শিশুটির বান্ধবীর মা কোতোয়ালি থানায় শিশুটিকে নিয়ে যান। শিশুটির বক্তব্য শুনে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার সৎ পিতাকে গত শনিবার রাতে গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান, তার মেয়ে তাকে পূর্বে কয়েকবার বলেছিল। তিনি মধ্যখানে একবার দেশে এসে তার স্বামীকে স্থানীয় মাজারের সামনে নিয়ে শপথ করান। এতে তিনি তার স্বামী পিটুকে বলেন সৎ মেয়ে হলেও সে তোমার মেয়ে। একে মেয়ের চোখে দেখো। তিনি তার মেয়ের ধর্ষণের কথা শুনে অবাক হয়ে বলেন, যদি তার স্বামী সত্যি এমন কাজ করে থাকে তাহলে তার শাস্তি হওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, শিশু ধর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার সৎ পিতাকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা দিয়ে গতকাল রবিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। এদিকে ভিকটিম শিশুটি বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালে রয়েছে। আজ সোমবার তাঁকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।