দক্ষিণ সুনামগঞ্জে নৌকাঘাট ইজারাদার ও গ্রামবাসীর দ্বন্দ্বে চরম দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক নৌযাত্রী

0
3

এম এম ইলিয়াছ আলী দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে :
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া-ভাটিপাড়া নৌকাঘাটের ইজারাদার ও গাজীনগর গ্রামবাসীর দ্বন্দ্বে দিরাই, নেত্রকোণা, মোহনগঞ্জ সহ হাওরাঞ্চলের অর্ধ লক্ষাধিক নৌ যাত্রী ও সাধারণ জনগণের চলাচলে জন ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। সাধারণ নৌ যাত্রী ও স্থানীয় সাধারণজনসাধারণের অভিযোগ ইজারাদার ও গাজীনগর গ্রামবাসীর এমন দ্বন্দ্বে এলাকায় যে কোন সময় ঘটতে পারে অনাকাংখিত ঘটনা। উভয়ই নিজ স্বার্থ প্রাধান্য দিচ্ছেন বলেও জানান তারা। তবে গাজীনগর গ্রামবাসীর দাবী তারা গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে গত হেমন্ত মৌসুমে ইউনিয়নের গাজীরখাল, পাঁচগছিয়া, ঢেউখালী, সিতুলিয়া, বাঘজোর এই পাঁচটি হাওরে ফসল রক্ষার জন্য প্রায় ৫২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গ্রামবাসীর অর্থায়নে স্থায়ী ভাবে ৬ কি.মি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেন। কিন্তু ইজারাদার রাতের আঁধারে ঐ বাঁধ কেটে নদী পথে নৌকা না চালিয়ে ফাঁড়ি পথে হাওরে প্রবেশ করে যাতায়ত করতে থাকে, পরে গাজীনর গ্রামবাসী তাদের হাওর রক্ষা বাঁধের ভেঙে যাওয়ার আংশকায় বাঁধের ভাঙ্গা অংশ বাশ দিয়ে বেরা দিয়ে বন্ধ করে রাখেন। ও ইজারাদারকে ঐ ভাঙা অংশ মেরামত করার জন্য বলেন। আর এ নিয়ে শুরু হয় ইজারাদার ও গ্রামবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব।
সরেজমিনে বুধবার দুপুরে পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের ঘনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, গ্রামের সাধারণ জনগণের অর্থায়নে ঐ ৫টি হাওরের প্রায় ৬ কি.মি. হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মান করা হয়। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার ডুলপশী-দত্তগ্রামের পূর্বে প্রায় ৩০-৪০ ফুট হাওর রক্ষা বাঁধ ভাঙা দেখা যায়। এদিকে হাওর পশ্চিম-দক্ষিণ খটাগাং ও সুমা নদী মোহনায় নৌকা চলাচল করতে দেখা যায়। কিন্তু এখন খটাগাং এর শেষ প্রান্তে ভাটিপাড়া রাস্থায় নৌকা বিড়িয়ে যাত্রীদের উঠা-নামা করতে দেখা যায়। তবে এখানে নেমে বা পাথারিয়া বাজার হতে যাত্রীগণ গ্রায় ১ কি.মি রাস্তা পায়ে হেঁটে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছেন তারা। কিন্তু হাওরের ভেতর দিয়ে নৌকা যাতায়াত করলে যাত্রীরা পাথারিয়া বাজারের পাশে ভাটিপাড়া রাস্তায় নামা-উঠা করতে পারতে এবং যাতায়াত অনেক সহজ হতো। সরেজমিনে আরও একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় চোখে পড়ে ঐ প্রতিবেদকের। দিরাই উপজেলার দত্তগ্রামের সাধারণ জনগণ হবিমান্য সরকারের বাড়ির পূর্ব পাশে সুমা নদী ও খটাগাং নদীর সংযোগস্থলে দীর্ঘ ২০-২৫ বছর যাবত বাঁধ দিয়ে জমিতে স্বেচ কার্যক্রম করতেন, চলতি বছর ঐ বাধটি নতুন করিয়া মেরামত করে উঁচু করেন গ্রামবাসী। যার ফলে ঐ নদী হয়ে নৌ চলাচল করতে পারে না কোন সময়। প্রতি বছর বর্ষাকালে নদী পথে (খটাগাং) নৌ চলাচল না করে ঐ হাওর দিয়েই ফাঁড়ি পথে ভাটি অঞ্চলের জনসাধারণ যাতায়াত করেন।
পাথারিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাথারিয়া-ভাটিপাড়া নৌকাঘাটটি ১৫দিনের জন্য গত ১ জুলাই খাস কালেকশনের (২২ হাজার ৫শত টাকা) মাধ্যমে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অস্থায়ী ভাবে ইজারা প্রাপ্তি হন পাথারিয়া গ্রামের মৃত ওয়ারিছ উল্লাহর ছেলে রফিক মিয়া।
এ ব্যাপারে গাজীনগর গ্রামের, সাবেক চেয়ারম্যান মো. মুস্তফা মিয়া,মাস্টার নুরুল আমিন, আব্দুল বাতিন মেম্বার, গোলাম কিবরিয়া, হাজী জমিল আহমদ, সাবেক মেম্বার ছুরাব আলী, আক্কাছ আলী মেম্বার, নুরুল হক মেম্বার সহ গ্রামবাসীর সাথে আলাপ কালে তারা জানান, আমাদের গ্রামের জনসাধারণের অর্থায়নে আমরা ঐ ৫টি হাওরের ৬ কি.মি হাওর রক্ষা বাঁধ স্থায়ী ভাবে নির্মান করেছি শুধু মাত্র আমাদের ফসল রক্ষার্থে, কিন্তু গত ১০-১৫ দিন পুর্বে রাতের আধাঁরে পাথারিয়া গ্রামের মৃত ওয়ারিছ উল্লাহর ছেলে রফিক মিয়ার লোকজন আমাদের হাওর রক্ষা বাঁধের কিছ অংশ ভেঙে ফাঁড়ি পথে নৌকা যাতায়ার করে। খবর পেয়ে আমাদের আমরা সহ গ্রামের সবাইকে নিয়ে গত ৪-৫দিন পূর্বে ঐ ভাঙায় বাঁশ দিয়ে বেরা দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ করি, সেই সাথে ইজারাদার রফিক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে আমাদের ভাঙা অংশ মেরামত করে দেওয়ার জন্য বলি, কিন্তু সে আমাদের কথা কর্ণপাত করেনি।
এ ব্যাপারে ইজারাদার রফিক মিয়া জানান, প্রতি বছর আমরা ঐ নৌকাঘাট ইজারা আনি, এবছর স্থায়ী ভাবে ইজারা আনিনি। তবে প্রতি বছরই ঐ হাওর দিয়েই নৌকা চলাচল করে, কিন্তু এবছর গাজীনগর গ্রামবাসী ঐ হাওরে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেন। যখন নির্মান কাজ করেন, তখন আমি সহ আমরা বেশ কয়েকজন গাজীনগর গ্রামবাসীর সাথে আলাপ করি, কিন্তু তারা আমাদের নৌকা চলাচলের রাস্তা রাখবেন বলে জানান, তারা একটি রাস্তাও পরে করে দিয়েছেন, কিন্তু গত কয়েকদিন পূর্বে তারা কয়েকজন আমাদের কাছে এক লক্ষ টাকা দাবী করে বলেন টাকা না দিলে নৌকা চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিবেন, পরে আমি টাকা দিতে অপারগতা জানালে তারা সাথে সাথে ঐ রাস্তায় বাঁশের বেরা দিয়ে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দেন। এখন ভাটি অঞ্চলের সাধারণ জনগণ খুব কষ্ট করে অনেক দূর হেটে নৌকায় যাতায়াত করছেন।