কানাইঘাটে শ্বশুর ও পুত্রবধূর কথা কাটাকাটির জেরে বাড়ীতে দুর্বৃত্তদের তান্ডব, আহত ৪

0
9

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
কানাইঘাট লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির মেছা গ্রামে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুত্রবধূর সাথে-শ্বশুরের কথা কাটাকাটির জের ধরে একটি বাড়ীতে তা-ব চালানো হয়েছে। দুবৃর্ত্তরা পাকা বসত ঘরের ২টি কক্ষের যাবতীয় খাট-ফালং ফার্ণিচার, দরজা, কলস, হান্ডিবাসন সহ সমস্ত জিনিসপত্র ভাংচুর করে তান্ডব চালিয়ে ৪ জন কে আহত করে নগদ টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে এলাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ীর লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, মেছা গ্রামের বৃদ্ধা মুশাহিদ আলীর কুয়েত প্রবাসী ছেলে নজরুল ইসলামের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী সাহিদা বেগম (৩০) গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় তার দুই ননদ কে গালিগালাজ করলে এর প্রতিবাদ করেন শ্বশুর মুশাহিদ আলী (৭০) ও তার স্ত্রী মুস্তারি বিবি (৬৫)। এ ঘটনার সূত্রধরে পুত্রবধূ সাহিদা বেগম তার শ্বশুর-শ্বাশুরি ও ননদদের হুমকি দিয়ে বলে আমি এখনই আমার পিতা ও ভাইদের কে মোবাইল ফোন দিচ্ছি তোদের মজা দেখাবো বলে তার পিতা সদর ইউপির নিজ চাউরা দক্ষিণ গ্রামে আব্দুল হক (৬৫) কে ফোন করে। মেয়ের ফোন পেয়ে পিতা আব্দুল হক তার ও তার স্ত্রী হাসনা বানু, পুত্র হেলাল উদ্দিন, আতাই মিয়া, আব্দুল জলিল, রশিদ আহমদ, কবির, কয়ছর আহমদ সহ আরো অজ্ঞাতনামা কয়েকজন কে সাথে নিয়ে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে মেয়ে সাহিদা বেগমের স্বামীর বাড়ীতে যান। সেখানে গিয়ে তারা চড়াও হয়ে পুরুষ শূন্য বাড়ীতে তাদের সাথে করে নিয়ে যাওয়া লোহার রড, ধারালো ডেগার, রাম দা, দেশীয় সুপারী গাছের রোল নিয়ে আচমকা হামলা শুরু করে। তান্ডব চালিয়ে তারা বসত ঘরের দু’টি কক্ষের সমস্ত মালামাল ব্যাপক ভাংচুর করে। তাদের হাত থেকে ঘরের কোন ধরনের জিনিসপত্র রেহাই পায়নি। হামলাকারীরা বৃদ্ধ মুশাহিদ আলী ও তার স্ত্রী বৃদ্ধা মুস্তারি বিবি, মেয়ে নাজমা বেগম, মারজিয়া বেগম কে এলোপাতাড়ী ভাবে পিটিয়ে আহত করে বাড়ীতে ত্রাস সৃষ্টি করে সাহিদা বেগম ও তার ৩ সন্তান কে নৌকায় উঠিয়ে পিত্রালয়ে নিয়ে আসে হামলাকারী বাবা-মা, ভাই ও স্বজনরা। হামলায় গুরুত আহত মুশাহিদ আলী ও তার স্ত্রী মুস্তারি বিবি কে উপজেলা হাসপাতাল কে সিওমেক হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাড়ীর মহিলারা জানান কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সাহিদা বেগমের পরিবারের লোকজন ধারলো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কমান্ডো স্ট্রাইলে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে ১৫/১৬ মিনিটের মধ্যে ঘরের সমস্ত মালামাল ভাংচুর ও কয়েকজন কে আহত করে সাহিদা বেগম কে নৌকায় উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ হামলার ঘটনা খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মুশাহিদ আলীর বাড়ীতে ভীড় জমান। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডাক্তার ফয়েজ আহমদ ও এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন কটই মিয়া বর্তমান ইউপি সদস্য আব্বাস উদ্দিন, কয়েছ আহমদ, তমিজ উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য নূর উদ্দিন, সমাজ সেবী শফিকুল হক, আব্দুর রব, কুতুব উদ্দিন, ফারুক আহমদ, মুরাকিব আলী সহ অসংখ্য লোকজন মুশাহিদ আলীর বাড়ীতে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে তার পুত্রবধূ সাহিদা বেগমের পরিবারের লোকজন কর্তৃক বর্বচিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। এই ঘটনায় মুশাহিদ আলীর ছেলে সমছুল ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে তার ভাবী সাহিদা বেগম ও তার বাবা-মা ও ৫ ভাই সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন কে আসামী করে থানায় গতকাল অভিযোগ দায়ের করলে থানার এসআই ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলা ও ভাংচুরের সত্যতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সাহিদা বেগমের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে তারা কোন কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।