কমলগঞ্জের ৩টি চা বাগানের চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন

0
4

পিন্টু দেবনাথ কমলগঞ্জ থেকে :
চা বাগানে বদলী হয়ে আসা এক কর্মচারীর যোগদান ও বাগানের শিক্ষিত বেকার শ্রমিক সন্তানদের নিয়োগ দানের দাবিতে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ৩টি চা বাগানের ১৫০০ চা শ্রমিক কাজে যোগদান না করে মঙ্গলবার (৭ আগষ্ট) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছে। সরকারী মালিকানাধীন ন্যাশন্যাল টি কোম্পানী (এনটিসি)-ও কুরমা, বাঘাছড়া ও কুরুঞ্জী চা বাগানে এ কর্মবিরতি শুরু করে চা শ্রমিকরা।
কুরমা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশি, বাঘাছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি রাখাল গোয়ালা ও কুরুঞ্জী চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শিমন্ত মুন্ডা জানান, একই কোম্পানীর পাত্রখোলা চা বাগানের বিতর্কিত কর্মচারী (টিলা বাবু) আব্দুল কাইয়ুমকে বদলী করে কুরমা চা বাগানে নিয়োগ দেওয়া হয়। বদলী হওয়া কর্মচারী আব্দুল কাইয়ূম কুরমা চা বাগানে যোগদান করায় সাধারণ চা শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। সাধারণ চা শ্রমিকরা বিতর্কিত এই কর্মচারীকে কুরমা চা বাগানে মেনে নিচ্ছেন না। একই সাথে কুরমা, বাঘাছড়া ও কুরঞ্জী চা বাগানের শিক্ষিত বেকার চা শ্রমিক সন্তানদের শূন্য পদে নিয়োগ দানের দাবি জানায় চা শ্রমিকরা। এ দাবির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে কাজে যোগদান না করেই এই তিন চা বাগানের নিবন্ধিত ১৫০০ চা শ্রমিক কর্ম বিরতি পালন করছে।
কুরমা চা বাগানের দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত চা শ্রমিক বালক দাশ, সত্য নারায়ন কুর্মী, মদমোহন তেলী, বাবুল মিয়া, দর্শন কুর্মী, ও জমশেদ আলী বলেন, এ চা বাগানে ৮টি শূন্য পদ রয়েছে। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে কাজ করলেও এসব শূণ্য পদে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। অথচ অন্য চা বাগানের বিতর্কিক একজন কর্মচারীকে কুরমা চা বাগানে এনে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাই সাধারণ চা শ্রমিকদের সাথে আলোচনাক্রমেই এক কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।
কুরমা চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক মো: শফিকুর রহমান শুরু হওয়া কর্মবিরতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাঘাছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিলে পরে তারাও কর্মবিরতিতে অংশ নেয়। তিনি বলেন, কোম্পানীর নিয়মে পাত্রখোলা চা বাগানের কর্মচারী আব্দুল কাইয়ূমকে কুরমায় বদলী করা হয়েছে। এখানে তিনি কোম্পানীর নির্দেশনা মেনেছেন। আর শূণ্য পদে নিয়োগ বা কারা নিয়োগ পাবে তা কোম্পানীর বিধি মোতাবেক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সির্দান্ত দিবেন। স্থানীয় ব্যবস্থাপক হিসাবে তার করার কিছু নেই বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনটি চা বাগানের নিবদ্ধিত ১৫০০ চা শ্রমিকের কর্মবিরতি পালন সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনা তিনি জানেন না। তাছাড়া কুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপকও তাকে কিছু জানাননি।