মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় পদক্ষেপ জরুরী

0
4

মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য, জাতির মুক্তির জন্য যাঁরা লড়াই করেন তাঁরা সে দেশের, সে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ মূল্যায়ন দেশ-কালের গণ্ডিতে সীমিত নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে এ মূল্যায়ন শাশ্বত। তবু কখনো, কোথাও বিরুদ্ধপক্ষ অন্তঃস্থ বা বাহ্যিক কারণে ক্ষমতাপুষ্ট হলে তাঁরা উপেক্ষা, নিগ্রহের শিকার হন। মানব ইতিহাসে এমন উদাহরণও রয়েছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের ক্ষেত্রেও সেসব ঘটেছে। তাঁদের উপেক্ষা-অবজ্ঞার শুরু মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের এক সামরিক শাসকের আমলে। সেই শাসকের দলে হরেক রকমের রাজনীতিকের সমাবেশ ঘটলেও স্বাধীনতাবিরোধীপক্ষের উপস্থিতিই ছিল বেশি। ২১ বছর লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা এ প্রবণতার রাশ টেনে ধরেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। তাঁর রাজনীতি নিয়ে অনেকের ভিন্নমত থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার বিষয়ে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা বিরুদ্ধপক্ষ ছাড়া সবাই করে। এ উদ্যোগের অনুকূল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল ২১ বছরের পরিক্রমায়। পরেও কিছু বাধা এসেছে, তবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মানের অভিযাত্রাকে থামানো সম্ভব হয়নি। সরকারের বাইরেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানোর, সহযোগিতা করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন সংস্থা স্বাধীনতাসংগ্রামীদের সংবর্ধিত করার, সহযোগিতা করার আয়োজন করে যাচ্ছে।
সম্মাননা পেয়ে তাঁরা আনন্দিত, অভিভূত। উৎসবস্থল সাজানো হয়েছিল তাঁদের ছবি দিয়ে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যে ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধার সংগ্রাম ও বীরত্বের সম্মাননা জানানো হয়েছিল। তাঁরা হলেন পিরোজপুরের হাবিবুর রহমান শিকদার ও আবুল হাশেম হাওলাদার, ময়মনসিংহের আবুল হোসেন মোল্লা ও মো. চান মিয়া, গাজীপুরের মো. হাতেম আলী, নীলফামারীর আলতাফ হোসেন, কুড়িগ্রামের আব্দুল কাদের, খুলনার শেখ ইলিয়াস, দিনাজপুরের মো. জসিম উদ্দিন, শেরপুরের গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রামের মোস্তফা কামাল পাশা, মেহেরপুরের সিরাজ উদ্দীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতিলাল বণিক, সুনামগঞ্জের সুশান্ত রঞ্জন ও ফরিদপুরের হেমায়েতউদ্দিন তালুকদার। সংবর্ধনার সময় তাঁদের প্রত্যেককে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেকের হাতে ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের অবজ্ঞা করার, হেয় করার, লাঞ্ছিত-বঞ্চিত করার সেই সব দিনের অবসান হয়েছে। তবু ওই অপপ্রবণতার, অপমানসিকতার ধারক-বাহক লোকের উপস্থিতি আমাদের সমাজে ও রাষ্ট্রে এখনো রয়ে গেছে। সময় অসূয়াগ্রস্ত এসব লোকের বিচার করবে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের আন্তরিক ভূমিকায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উজ্জ্বলতর হোক; সব মুক্তিযোদ্ধা প্রাপ্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হোন।