বাজেট পাস

0
5

আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। গত ৭ জুন অর্থ বিল ২০১৮ সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কোন পণ্য ও সেবায় কী হারে শুল্ক, কর, ভ্যাট প্রভৃতি আরোপিত হবে, তা উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের কাছে সেটি পেশ করা হয়েছিল। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এসবের ভিত্তিতে বিলে কিছু সংশোধনী আনা হয়। গত বুধবার সদস্যরা সংশোধিত বিল কণ্ঠভোটে পাস করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়।
বাজেটের কিছু দিক উল্লেখ করা যায় ইন্টারনেটের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পেয়েছে কম্পিউটার যন্ত্রাংশ। দেশি মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য দেশে উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়তি ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঠোঁটে ও ত্বকে ব্যবহার্য পেট্রোলিয়াম জেলির সম্পূরক শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এনার্জি বাল্বের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদন উৎসাহিত করতে দেশি উৎপাদকদের ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৭ শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আমদানির ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে শুল্ক কমানো হয়েছে। ড্রাই মিক্সড ইনগ্রেডিয়েন্টের শুল্ক ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। ব্যাটারিশিল্পের কাঁচামাল প্রাকৃতিক বেরিয়াম সালফেটের শুল্ক ১০ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। হেপাটাইটিস-সি রোগের ওষুধের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য করা হয়েছে। মোবাইল সিম কার্ড ও স্মার্ট কার্ডের কাঁচামাল পিভিসি শিটের আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ওষুধের মোড়ক তৈরিতে ব্যবহার্য পিভিসি ফিল্ম ও নাইলন ফিল্মের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। টেলিভিশনের এলসিডি ও এলইডি প্যানেল তৈরিতে ব্যবহার্য ওপেন সেল আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ডিজিটাল কার্ডের মডিউলের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। ডাবল কেবিন পিকআপের রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। গুঁড়া দুধ আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে আবারও ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বন্দরসেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরা হয়েছে। সিগারেটের দাম এবং জর্দা ও গুলের ট্যারিফ কিছু বাড়ানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে তামাকজাত পণ্যের বিষয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবের সময় নতুন করারোপের বিষয় তেমন ছিল না। সংশোধিত অর্থ বিলে অনেক ক্ষেত্রেই শুল্ক কমানো হয়; কিছু পণ্যে বাড়ানোও হয়। শুল্ক কমানো-বাড়ানোর উদ্দেশ্য দেশে উৎপাদিত বা সংযোজিত পণ্যের প্রসার ঘটানো। সাধারণের সামর্থ্যরে বিষয়েও খেয়াল রাখা হয়েছে। পাসকৃত বাজেট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী এবং করদাতাদের অনুকূলে থাকবে এটাই আশা করি। বাস্তবায়নকালে এটি নিশ্চিত করতে হবে।