বাজার স্থিতিশীল করুন

0
5

নিত্যপণ্যের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। রোজার সময় চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক জিনিসের দাম বাড়ে। রোজা শেষে দাম কমেও যায়। কিন্তু এবার যেন তার উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রোজার পরও চাল, পেঁয়াজ, সবজি, মাছ, মাংসসহ অনেক পণ্যের দাম বাড়তির দিকে। টিসিবি তাদের সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে জানিয়েছে, বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। আগের অর্থবছরে বিনা শুল্কে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় মৌসুমের ধান ঘরে তুলেছে কৃষকরা। কিন্তু বাজারে চালের দাম কমেনি। এখন সরকার চালের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে। এমনকি শুল্ক আরোপের আগেই চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি ব্যবসায়ীদের কারসাজি।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই খুচরা পর্যায়ের বাজারেও কিছু নিয়ম-কানুন থাকে। দুর্ভাগ্য, আমাদের তা নেই। বাজার যখন চরমভাবে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, ক্রেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন, তখন আমাদের নীতিনির্ধারকদের নানা রকম অন্তঃসারশূন্য ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও আশ্বাস দিতে দেখা যায়। তাতে বাজারের কোনো বিশেষ পরিবর্তন হয় না। সাধারণত চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলে বাজারে যেকোনো জিনিসের দাম বাড়ে। মুক্তবাজারে যখন যেকোনো পণ্য সহজেই আমদানি করা যায়, তখন দাম বাড়ার কথা নয়। কিন্তু চাহিদা ও সরবরাহের সূত্রে নয়, বাংলাদেশের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে নানা অজুহাতে। কখনো অতিবর্ষণ, কখনো পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, কখনো আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের একটি গোপন জোট বা সিন্ডিকেটের কথা বরাবরই আলোচিত হয়। এখন একেক সময় একেকটি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। চালের দাম বাড়ানোর পর আমদানি উন্মুক্ত করে দিয়েই বাজারের লাগাম টেনে ধরা যায়নি। চাল আমদানি হয়েছে ঠিকই; কিন্তু দাম সে অনুপাতে কমেনি।
বাজার স্থিতিশীল রাখা, ভোক্তাস্বার্থ সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেটি কোন পদ্ধতিতে করা হবে, তা রাষ্ট্রকেই নির্ধারণ করতে হবে। বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে পারত একটি বিকল্প বাজার ব্যবস্থা। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সেদিকে কোনো দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না। বাজারে নিয়মিত নজরদারিতেও যেন অনীহা যথাযথ কর্তৃপক্ষের। আগে টিসিবির মাধ্যমে বাজারে হস্তক্ষেপের কিছু প্রচেষ্টা থাকলেও এখন তা নেই বললেই চলে। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের জিম্মি করতে পারছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে বের করতেই হবে। আমরা আশা করি, পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।