পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি রোধ চাই

0
4

এবারও রোজার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলো না। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম কোনো কারণ ছাড়াই ঊর্ধ্বমুখী। সরকার কিংবা ব্যবসায়ীদের আশ্বাস কোনো কাজে লাগেনি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সব পণ্যের মজুদ চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি থাকায় মূল্যবৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাজারে সব জিনিসের দামই বেড়েছে। রোজার সময় চিনির ব্যবহার বেড়ে যায়। বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। অথচ আমদানি ক্ষেত্রে গত ডিসেম্বর থেকে চিনির দাম টনপ্রতি ৫০ ডলার কমেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঢাকায় পেঁয়াজের পাইকারি আড়তে অভিযান চালিয়ে বস্তার গায়ে দাম ও পরিমাণ লেখার নির্দেশনা দিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা এখনো এ নির্দেশনা মানছেন না। কথা ছিল বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিমসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও জাল-জালিয়াতি নিয়ে নজর রাখবে। বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও নেই। অনিবার্য প্রভাব পড়েছে বাজারে। নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ইচ্ছামতো জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন খরচ কিংবা আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ওঠানামা নয়, বাংলাদেশের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে বাজার সিন্ডিকেটের গোপন ইশারায়। ক্ষেত্র বিশেষে মনে করা যেতে পারে, এই সিন্ডিকেটের কাছে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও অসহায়। প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে পণ্যের দাম লেখা আছে কি না, উৎপাদন ও মেয়াদ ঠিকঠাক আছে কি না এসব নিয়ে মোবাইল কোর্ট সর্বশেষ কবে পরিচালিত হয়েছে? সাধারণ ভোগ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো, পণ্য তৈরির পরিবেশসহ নানা বিষয়ে রোজার মাসে কোনো অভিযান বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কোনো সিদ্ধান্ত কি গত বুধবার পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিয়েছে? ওদিকে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি জানিয়েছে, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশেরও বেশি সরাসরি পানের জন্য নিরাপদ নয়। ওই দুধ বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া এবং পাঁচটি জেলার ১৫টি হিমাগার থেকে সংগৃহীত নমুনায় মলবাহিত কলিফর্ম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশের নমুনাই কোলাই দ্বারা উচ্চমাত্রায় দূষিত। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, দুগ্ধ খামার থেকে শুরু করে বিক্রির জন্য পাঠানো প্রতিটি পর্যায়ে দুধ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত।
আর এসব ঘটনা ঘটছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি না থাকার কারণেই। প্রায় প্রতিটি পণ্যে ভেজাল দেওয়া যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। যেহেতু অনৈতিকভাবে দাম বাড়ালে কিংবা ভেজাল দেওয়া হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো খবরদারি থাকে না, শাস্তি হয় না। কাজেই ব্যবসায়ীরাও এখন যেন মওকা পেয়ে গেছে। তবে রোজার মাসে বাজারে নজরদারি না বাড়ালে ভেতরে ভেতরে জন-অসন্তোষ বাড়বে, যার ফল ভালো হবে না। সময় থাকতে বাজারে নজর দিন।