দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত

0
12

বৈশ্বিক শান্তিসূচক ২০১৮-তে বাংলাদেশ ১০ ধাপ পিছিয়েছে। সূচক তৈরিতে বিবেচিত অন্যান্য শর্তে বাংলাদেশের উন্নতি হলেও বাংলাদেশের এমন অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মিয়ানমারে হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়ে সাত লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকে। ১৬৩টি দেশের মধ্যে এবার বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৯৩তম। গত বছর এ অবস্থান ছিল ৮৩তম। তালিকা অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ওপর রয়েছে ভুটান (১৯), শ্রীলঙ্কা (৬৭) ও নেপাল (৮৪) এবং বাংলাদেশের নিচে রয়েছে ভারত (১৩৬), পাকিস্তান (১৫১) ও আফগানিস্তান (১৬২)।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস প্রতিবছরই এ সূচক তৈরি করে। এতে বিদ্যমান অপরাধপ্রবণতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা, অস্ত্রের বিস্তারসহ ২৩টি বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জঙ্গি-সন্ত্রাস দমানোসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন ভালো হলেও ‘বাহ্যিক সংঘাতের’ কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়াকেই মান অবনমনের প্রধান কারণ বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য এতে বাংলাদেশের করারও কিছু ছিল না। মানবিক কারণেই হত্যা-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিতে হয়েছে। সারা দুনিয়া বাংলাদেশের এই অবস্থানের প্রশংসাও করছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংকট সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চলতি সপ্তাহে মিয়ানমার জাতিসংঘের সঙ্গেও চুক্তি সই করেছে। আশা করা যায়, শিগগিরই প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরু হবে। এর পরও বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা নিতে হবে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মিয়ানমারে অব্যাহত নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পালিয়ে আসার ঘটনা নতুন নয়। চার দশক ধরেই বিভিন্ন সময়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত বছর আসা সাত লাখ রোহিঙ্গা ছাড়াও আগে বিভিন্ন সময়ে আসা প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবারও অনেক রোহিঙ্গা ফিরে যেতে চাইবে না এবং বাংলাদেশে থেকে যাবে। এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের অনেকে সীমান্ত এলাকা ছাড়িয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে কক্সবাজার ও বান্দরবনের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিপুল ক্ষতি হয়েছে ও হচ্ছে। এসব এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ক্রমে খারাপ হচ্ছে। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বেড়ে গেছে। তাই এ সংকট মোকাবেলায় ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে।
সব উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য থাকে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ভালো। আমরা আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং আগামী বছর শান্তির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ওপরে উঠে আসবে।