খেলোয়াড় তৈরি জরুরী

0
28

এশিয়া কাপের হতাশা কাটিয়ে দেশের মাটিতে আরো একটি সিরিজ জয় করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শুক্রবার তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে সাত উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে ১২টি ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। শুধু হোয়াইটওয়াশ নয়, এই সিরিজে বাংলাদেশের প্রাপ্তি অনেক। বড় রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে, হেসেখেলে লক্ষ্য উতরে গেল বাংলাদেশ। দলে ফিরেই ১১৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস উপহার দিলেন সৌম্য সরকার। ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা লেখা হলো ইমরুল কায়েসকে নিয়ে। তিন ম্যাচের তিনটিতেই পেয়েছেন অর্ধশতক। এর মধ্যে দুটি শত রান। এখানেই শেষ নয়। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখন তাঁর। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবালের ৩১২ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে ইমরুলের সংগ্রহ এখন ৩৪৯। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৮০ বলে ২২০ রান।
টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে একেবারে ভুল ছিল না, সেটা প্রমাণিত হয় দ্বিতীয় ওভারেই। সাইফুদ্দিনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সিফাস জুয়াও। পরের ওভারেই আবু হায়দারের বল খেলতে গিয়ে মাসাকাদজা ফিরে যান। দিনের শুরুটা ভালো হলেও একপর্যায়ে মনে হয়েছিল, জিম্বাবুয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শন উইলিয়ামস ও টেইলরের ব্যাটিংয়ে। বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই লিটন দাসের উইকেট খুইয়ে খানিকটা হতাশা ছিল। কিন্তু সে হতাশা কাটতে সময় লাগেনি। ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার দলকে নিয়ে যান জয়ের দ্বারপ্রান্তে। বাকি কাজটুকু সারেন মুশফিকুর রহিম ও মিঠুন মিয়া।
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজের প্রাপ্তি অনেক। তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান চোটের কারণে দলের বাইরে। কিন্তু তাতে দলকে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি। লিটন, ইমরুল এমনকি দলে ফিরে আসা সৌম্য সরকার সব ঘাটতি দূর করে দিয়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ওপর নির্ভর করলে তাঁরা প্রতিদান দিতে জানেন। বাংলাদেশ দলের একজন পেস অলরাউন্ডার দরকার ছিল।
সাইফুদ্দিন যে নির্বাচকদের মনে সে জায়গাটি করে নিয়েছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবচেয়ে বড় পাওয়া এই যে বাংলাদেশ দলে এখন একই পজিশনে খেলার মতো একাধিক খেলোয়াড় তৈরি। এখন ব্যাটসম্যানদের মতো বোলারদের মধ্যেও যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, তাহলে বলা যাবে দুর্দান্ত বাংলাদেশ দল যাবে বিশ্বকাপে। ২০১৯ সালে যে বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানে সব দিক থেকে ব্যালান্সড দলকেই দেখতে চায় বাংলাদেশের মানুষ। মাঠের খেলায় দেখতে চায় সাহসী ক্রিকেটারদের, যাঁরা খেলবেন দেশের জন্য।