কোটা সংস্কার সমস্যা

0
9

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রবিবার রাতভর পুলিশের সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে থমথমে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে বেশ কিছুদিন থেকেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের আন্দোলন চলছে। গত রবিবার পদযাত্রার কর্মসূচি দিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয় তারা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখা হয়। রাতে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের উঠিয়ে দেয় বলে সংবাদমাধ্যমের খবর। এরপর বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিতে থাকে। মধ্যরাতের পর আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানান। তাঁর নির্দেশনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসবেন বলেও জানান তিনি। কিন্তু আন্দোলনকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। মধ্যরাতে একদল আন্দোলনকারী উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালায়। উপাচার্য ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোনো রকমে জীবন রক্ষা করেন। হামলাকারীরা উপাচার্য ভবনের ঘরে ঘরে তাণ্ডব চালায়।
সোমবার সকালে নিজের কার্যালয়ে গিয়ে উপাচার্য জানান, এটা সাধারণ বিক্ষোভকারীদের হামলা ছিল না। প্রশিক্ষিত হামলাকারীরা মুখোশ পরে তাঁর প্রাণনাশের জন্য গিয়েছিল বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এক ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়েছে, উপাচার্যের বাসায় হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ কাজ করেছে বাইরের সন্ত্রাসীরা। ওই সন্ত্রাসীরা কারা? তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী? এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে। ‘উপাচার্যের বাসায় হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই’ আন্দোলনকারীদের এ বক্তব্য সঠিক হলে ধরে নিতে হবে, আন্দোলনে ছদ্মবেশে ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের লোকজনের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের উত্তাপ বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়েছে। রবিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাস্তায় নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকারপক্ষ কোটাব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাস দিয়েছে। এ আশ্বাসে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিষয়টি আলোচিত হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘সরকার চাকরির কোটা পদ্ধতি আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আমরা মনে করি, বিদ্যমান কোটাব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যৌক্তিক ও কার্যকর সমাধান মিলবে। সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের জায়গা হোক, এটা সবাই চায়। কিন্তু আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন কাম্য হতে পারে না।