সংলাপের পথে সরকার ! ॥ বিএনপির সাড়া সম্ভব

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সহিংসতাই কি ঠেকিয়ে রেখেছে সংলাপ? প্রথম দিকে সংলাপে না বসার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কঠোর মনোভাব দেখালেও সম্প্রতি সরকারের মন্ত্রী এমপিরা সংলাপের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিএনপিই সেদিকে পা বাড়াচ্ছে না।
সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুলক ইনু, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামসহ বেশ কয়েক জন নেতার মুখেই সংলাপের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।
এ ছাড়া বিএনপি নেত্রীকে গ্রেফতার বা গৃহবন্দী না করার মধ্যদিয়েও শাসক দল সংলাপের বিষয়ে একটা মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক চিন্তার অংশ হিসেবেই গুলশান কার্যালয়ে বিদ্যুতের পুনঃসংযোগ দেয়া হয়েছে। মুখোমুখি অবস্থান এড়ানোর জন্যই বারবার এসএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতারা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বিএনপিকে বলতে হবে তারা কি নিয়ে সংলাপ চায় এবং সংলাপের আলোচ্যসূচিই বা কি হবে?
রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ এই দলটি দৃশ্যত এখন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না চালিয়ে চোরাগোপ্তা হামলার পথ বেছে নিয়েছে।তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি চালু করেছে। ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতকে এ দলটি অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশ্ন হচ্ছে- সংলাপে না বসে সারাদেশে জ্বালাও পোড়াও চালিয়ে কি কোনো কিছু আদায় করা সম্ভব? এভাবে মানুষ পুড়িয়ে, গাড়ি পুড়িয়ে তারা কি ধীরে ধীরে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে নিজেদেরকে জাতির সামনে হাজির করতে চাইছে।
তারা যা করছে এটা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড হতে পারে না।এই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে হলে সংলাপের মাধ্যমেই তা সম্ভব।
গত শনিবার ক্ষমতাসীন জোটের শরীক জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যেই সংলাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে আগে সংলাপের বিষয় ঠিক করতে হবে। তারপর সংলাপ।’
একই দিনে ভিন্ন এক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থে সরকার অনড় অবস্থানে থাকবে তাও মনে করার কারণ নেই।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কোনো রকম আলাপ আলোচনা না করেই কর্মসূচি দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা এই প্রতিবেদককে বলেছেন, চেয়ারপারসন কর্মসূচি দেয়ার আগে দলের কারো সঙ্গেই আলাপআলোচনা করার প্রয়োজনও বোধ করেন না।
এসব বক্তব্য প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সরকারের মধ্যে এমন উদ্যোগ থাকলে আর তো কোনো সমস্যা থাকে না। এমনটা হলে দেশের জন্য অনেক মঙ্গল।’
এছাড়া সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছিলেন, সংলাপে বসতে চাইলে বিএনপিকেই সবার আগে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এজন্য তাদের সহিংসতা, হরতাল, অবরোধ, পেট্রল বোমা দিয়ে মানুষের উপর হামলা বন্ধ করতে হবে।
এছাড়াও সরকারের আগের অবস্থান যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। এজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সাত দফা নির্দেশনাও দেয়া হয়।
আলোচনার দরজা খোলা রেখেই সরকার আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতসহ তাদের শরীকদের সহিংস তৎপরতা বন্ধে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন নাহার লাইলী বলেছিলেন, সংলাপের পরিবেশ বিএনপিকেই সৃষ্টি করতে হবে। এর আগে তাদেরকে হরতাল-অবরোধসহ সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। তারপর সরকার চিন্তা করবে তাদের সাথে সংলাপ হবে কিনা।
একই মত সরকারের অংশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সংসদ এম এ আউয়ালের। তিনি বলেছিলেন, আমরা কার সাথে সংলাপ করবো। বিএনপিতো রাজনীতির মাঠে নেই। হরতাল সহিংসতা ছেড়ে রাজনীতির মাঠে আসলে তাদের সাথে সংলাপ হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেলিন বলেছিলেন, ‘সংলাপ হতে পারে। সংলাপ তো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হতেই পারে। এটা নিয়ে তো কোনো দ্বিমত নেই। এখন যদি কেউ বলে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সংলাপ, সরকারের পতন নিয়ে সংলাপ- এসব নিয়ে সংলাপের অবকাশ নেই।’ তিনি বলেন, ‘সংলাপ হতে পারে দেশের অগ্রগতি নিয়ে। সংলাপ হতে পারে সামনে এসএসসি পরীক্ষা সেটা যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় তা নিয়ে।’