যুবলীগের একাংশের সংবাদ সম্মেলন ॥ কানাইঘাটে যুবলীগের সমাবেশে অর্থ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর আগমন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত

26

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার কানাইঘাট উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে স্থানীয় রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত  সমাবেশে অর্থপরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান এমপির আগমন নিয়ে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। যুবলীগের এ সমাবেশে অর্থ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান এমপির কানাইঘাট আগমন সফল করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা জুড়ে পোস্টারিং ও পৌর শহরে বেশ কয়েকটি তোরান নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সমাবেশের দুই দিন পূর্বে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার কানাইঘাট প্রেসক্লাবে উপজেলা আওয়ামীলীগ যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করায় এম.এ মান্নান এমপির আগমন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বিরাজ করছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। ইতিমধ্যে অর্থ পরিকল্পনা মন্ত্রীর কানাইঘাট সফরের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মোঃ আবুল কালাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে ফ্যাক্সযোগে পাঠিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী দলীয় রেষারেষির কারণে কানাইঘাটে যুবলীগের সমাবেশে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুক আহমদ জানিয়েছেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশে মন্ত্রী এম.এ মান্নান আসবেন, এটা নিশ্চিত। অপরদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার কানাইঘাট প্রেসক্লাবে মন্ত্রীর আগমন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক এনামুল হক জানান, যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর জনসভায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ.মান্নান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এমন ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করা হলেও এ সমাবেশের সাথে উপজেলা ও পৌর যুবলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এম.এ মান্নান এমপির মতো একজন সজ্জন মন্ত্রীকে বিতর্কিত করার জন্য উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুক আহমদ সহ ৩/৪ জন যুবলীগের নামধারী জনবিচ্ছিন্ন নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে কোন ধরনের আলাপ আলোচনা ছাড়াই যুবলীগের নাম ব্যবহার করে সমাবেশের আয়োজন করেছে। উক্ত জনসভার সাথে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিম্নতম সংশ্লিষ্টতা নেই। যে জায়গায় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে তা জামায়াত শিবির অধ্যুষিত এলাকা। গত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পূর্বে উক্ত জনসভা স্থলের অদূরে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম। এ সমাবেশস্থলে আসলে এম.এ মান্নান এমপির জীবনের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। মন্ত্রীর আগমন নিয়ে যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ ৩/৪জন মিলে প্রশাসন পাড়াসহ সব জায়গায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন এমনও অভিযোগ আনেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যুবলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। এর মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণœ হচ্ছে তাদের দাবী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য আব্দুল্লাহ আল মুমিন, ফরিদ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, আলম আহমদ, পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ইয়াহিয়া, সেলিম উদ্দিন, উপজেলা আ’লীগের সদস্য মাহবুবুর রহমান, পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নছির উদ্দিন প্রধান, স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক আজমল হোসেন, পৌর যুবলীগের সদস্য শহিদুর রহমান, কাওছার আহমদ, দেলোয়ার হোসেন, শাহীন আহমদ, শ্রমিকলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ জসিম উদ্দিন, শ্রমিকলীগ নেতা নুরুল ইসলাম জালালী, জীবান আহমদ, আলমগীর হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা আখতারুজ্জামন হিমেলসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।