কোম্পানীগঞ্জে যুবলীগ নেতা আব্দুল আলী হত্যার ৩৫ দিনে গ্রেফতার হয়নি হত্যাকান্ডের নেপথ্যের নায়করা। তার হত্যাকান্ডে প্রতিপক্ষ ‘সন্ত্রাসী’ পাথর শামীমের কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আব্দুল আলীর চেহলাম অনুষ্ঠানে নিহতের স্বজনসহ আগতরা এমন অভিযোগ করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আগতরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুবলীগ নেতা আব্দুল অলীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নেপথ্যের নায়ক ও পরিকল্পনাকারী শামীম ওরফে পাথর শামীম, এডভোকেট মাহফুজ, এডভোকেট আজমল, এডভোকেট হাবিবুর রহমান ভুট্টো ও কাজী আব্দুল অদুদ আলফু চেয়ারম্যনের নাম প্রকাশ পেলেও আজোবধি শামীমসহ পরিকল্পনাকারীদর গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও নিহতের পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। নিহতের ভাই আব্দুল হক জানান, মামলার এজাহারে সন্ত্রাসী শামীম ওরফে পাথর শামীমের নাম উল্লেখ থাকলেও তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। সে প্রকাশ্যে রয়েছে এবং আমার ভাই আব্দুল আলী হত্যায় তার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে দম্ভোক্তি করে বেড়াচ্ছে। শামীম আমাকেও হত্যা ও গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছে। ফলে আব্দুল আলী হত্যা মামলার সাক্ষীসহ পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বলে জানান তিনি।
চেহলামে যোগদানকারী মুসল্লিদের উদ্ধেশ্যে বক্তৃতাকালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আব্দুল আলী হত্যাকান্ডের সংশ্লিষ্টদের দলীয় কিংবা প্রশাসনিক কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। পরে শফিকুর রহমান চৌধুরী নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের খোজ খবর নেন ও সান্ত্বনা দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আছাদুজ্জামান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির মুছব্বির, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব আলী, কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন, চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন, যুবলীগ নেতা হারুন রশিদ, তজব আলী, আনোয়ার শাহান, আনোয়ার হোসেন বাবু, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শফিউল কবির প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সন্ত্রসীদের গুলিতে নিহত হন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আলোচিত নেতা ও ব্যবসায়ী আব্দুল আলী। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ আলফু চেয়ারম্যান সহ হত্যা ও অস্ত্র আইনের পৃথক মামলায় ৭জনকে গ্রেফতার করে। (খবর সংবাদদাতার)






