ইসলামী চিন্তা-গবেষণার গুরুত্ব

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান

(পূর্ব প্রকাশের পর)
সাম্প্রতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত দানে তাবিঈগণের পদ্ধতি: সাম্প্রতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত দানের ক্ষেত্রে তাবিঈগণের যুগে নতুন কোন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়নি। বরং তারা সাহাবীগণের পদ্ধতিই অনুসরণ করতেন। তবে এ যুগে ইজতিহাদ ও কিয়াসের ব্যাপক প্রচলন ছিল। যুক্তি দর্শন ভিত্তিক এ পদ্ধতির গোড়াপত্তন মূলত ইবরাহীম নাখয়ীর হাতে হয়, যিনি আলকামা নাখয়ীর ছাত্র ছিলেন। আর আলকামা নাখয়ী সরাসরি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে ফিকহ শিক্ষা করেন। সাহাবীগণের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) অধিক হারে রায় ও কিয়াস প্রয়োগের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ ছিলেন। “ইবনে কাইয়্যিম, ইলামুল মুয়াক্কিইন, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৬০-৬১। এ সময়কালে যুক্তি ও দর্শন নির্ভর এ পদ্ধতি উদ্ভাবের কারণ এ সময়ে ইসলামী সম্রাজ্য সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর ইসলাম গ্রহণের ফলে অধিক হারে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয় যার কোন সমাধান সরাসরি কোরআন, সুন্নাহ বা পূর্বের আইনী উৎসে বিদ্যমান ছিলনা। এ সময়ে ইরাক ছিল সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু। এ কারণেই ইসলামী বিধান নির্ণয়ের এ পদ্ধতিটিও এখান থেকেই প্রকাশিত হয়েছিল। “ইবনে খালদুন, মুকাদ্দামা, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪১৬।
তাবিঈগণের পরবর্তী যুগ অর্থাৎ তাবে-তাবিঈগণের যুগে এ বিষয়ক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সোনালী অধ্যায় রচিত হয়। এই যুগেই প্রধান চার মাযহাবের প্রকাশ ও তাদের ফিকহ সংকলন সম্পন্ন হয়। ইতিহাসের কাল পরিক্রমায় সাম্প্রতিক বিষয়ের ইসলামী বিধান নির্ণয়ের যেসব পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল বর্তমান সময়ে এসে তাকে আমরা নিম্নোক্ত চারটি পদ্ধতি সীমাবদ্ধ করতে পারি: ১. ‘শরঈ দলীল’ শরীয়াতের মূলনীতি ২. ‘ফিকহী কায়িদা’ ফিকহের মূলনীতি ৩. ‘তাখরীজ ফিকহী’: ফিকহী বিশ্লেষণ ৪. ‘মাকাসিদ শরীআহ’ : শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য।
১. ‘শরঈ’ দলীলের মাধ্যমে বিধান নির্ণয়: শরঈ দলীল অর্থাৎ ইসলামী আইনের উৎস কয়টি সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম তুফী তার রিসালাহ ফী রিআতুল মাসলাহা’ গ্রন্থে ইসলামী আইনের ১৯টি উৎ সের বর্ণনা দিয়েছেন। উক্ত গ্রন্থের ভাষ্যকার ড. আহমদ আব্দুর রহীম সায়েঈ এছাড়া আরও ২৬টিসহ মোট ৪৫টি উৎসের উল্লেখ করেছেন। “তুফী, ইমাম, রিসালাহ ফী রিআয়াতুল মাসলাহা, বিশ্লেষণ: ড. আব্দুর রহমান সায়েঈ, বৈরূত: দারুল মিসরিয়্যাহ লিবনানিয়্যাহ, ১৪১৩ হি. পৃ. ১৩-২১। ফকীহগণ শরীয়াতের দলীলসমূহ দু’ভাগে ভাগ করেছেন-
প্রথম ভাগ: যেসব উৎসের ব্যাপারে আলিমগণ একমত হয়েছেন। এর মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহ, ব্যাপারে সকলেই একমত। জমহুর ফকীহগণ ইজমা ও কিয়াস শরীয়াতের উৎস হওয়ার ব্যাপারে একমত। মুতাযিলা মতাদর্শী নাজ্জাম ও খারিজীগণ ইজমা এবং জাফিরিয়্যাহ ও জাহিরিয়্যাহ সম্প্রদায় কিয়াসের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। “আল-হাজুরী, মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আল-ফিকরুস সামী ফী তারিখিল ফিক্হ আল-ইসলামী, বৈরূত: দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যা, ১৪১৬ হি. খ. ৩, পৃ. ৩০।
দ্বিতীয় ভাগ: যেসব দলীলের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, ইমাম কারাফী তার সংখ্যা বলেছেন ১৫। ড. আবদুর রহীম সায়েঈ এর বর্ণনা অনুযায়ী ৪১। নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ও ফকীহগণের মতামতের ভিত্তিতে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮।
১. ইস্তিহসান, ২. ইস্তিসহাব, ৩. মাসালিহ, ৪. উরফ, ৫. সাদ্দুজ জারাঈ, ৬. সাহাবীগণের ফাতওয়া, ৭. মদীনাবাসীর কর্মকান্ড ও ৮. পূর্ববর্তী শরীয়াত।
শরঈ দলীলের ভিত্তিতে বিধান নির্ণয়ের নীতিমালা শরঈ দলীলের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নীতিমালা রয়েছে, যা অনুসরণ করা জরুরী।
প্রথম: নস অনুধাবনের ক্ষেত্রে শব্দের দালালাত বা শব্দার্থতত্ত্বকে গুরুত্ব দেয়া নসে বর্ণিত শব্দের প্রকৃত অর্থ জ্ঞাত হওয়া ব্যতীত গবেষক কোনক্রমেই তা থেকে বিধান উদ্ভাবন করতে পারবেন না। এ কারণে ইমাম গাযালী শব্দার্থ তত্ত্বকে উসূলে ফিকহের মূলস্তম্ভ গণ্য করেছেন। “আল-গাযালী, আল-মুস্তাসফা, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৩১৫। একই কারণে আধুনিক অনেক উসূলবিদ দালালাত তথা শব্দার্থতত্ত্ব অধ্যায়ের নামকরণ করেছেন “দলীল থেকে বিধান উদ্ভাবনের পদ্ধতি বা নীতি’’। আবু যাহরা, উসূলুল ফিকহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ১১৫, আয-যুহায়লী, উসূলুল ফিকহ, প্রাগুক্ত, খ-১, পৃষ্ঠা-১৯৭’’।
দ্বিতীয়ত: নসকে খারাপ উদ্দেশ্যে ও বিকৃত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তার প্রকাশ্য রূপ থেকে বের না করা বাতিনী সম্প্রদায় যেমনটি করে থাকে। আল্লামা ইবনে কাইয়্যিম বলেন, মুফতি মুজতাহিদ বা গবেষক কোরআনের আয়াতের অথবা রাসূল (সা.) এর সুন্নাহ’র ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তার উচিত নয় যে, নিজের কুপ্রবৃত্তির চাহিদার্থে বিকৃত এমন করে তবে তার ফাতওয়া বা ইসলামী বিধানের ভাষ্য দেয়ার অধিকার রহিত হবে এবং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। “ইবনে কাইয়্যিম, ইলামুল মুকিঈন আন-রব্বিল আলামীন, প্রাগুক্ত, খ. ৪, পৃ. ১৮৯।
তৃতীয়ত : বিধানের ফলে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কে সচেতন হওয়া অর্থাৎ সাম্প্রতিক বিষয়ের বিধান নির্ণয়ের পরে যাতে এর সাথে শরঈ কোন দলীলের বৈপরিত্য সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া।
চতুর্থত : নস অথবা শব্দতত্ত্বের মধ্যে বৈপরিত্যের ক্ষেত্রে এর মধ্যে সমন্বয়, ধারাবাহিকতার পদ্ধতি অবগত হওয়া।
উসূলবিদগণের শর্তানুযায়ী যদি এসবের মধ্যে বৈপরিত্য থাকে তবে সেক্ষেত্রে করণীয়। ‘‘বারযানজী, আব্দুল লতীফ, আত্তাআরুদ, ওয়াত তারজীদ, বৈরূত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৩ হি. খ-২, পৃ. ১২৮-১৩৪’’।
১. উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা ২. সমন্বয় সম্ভব না হলে একটিকে অগ্রাধিকার দেয়া ৩. অগ্রাধিকার সম্ভব না হলে ইখতিয়ার প্রদান।
পঞ্চমত: নস বুঝার ক্ষেত্রে আকলে সালীম (সুস্থ বিবেক) কাজে লাগানো।
আলিমগণ একমত যে, সুস্থ বিবেক সহীহ বর্ণনামূলক দলীলের বিরোধী নয়। তারপরেও যদি সহীহ বর্ণনার সাথে আকলের সংঘাত হয় সেক্ষেত্রে বর্ণনাকেই গ্রহণ করতে হবে ও আকল পরিত্যাগ করতে হবে। ‘‘ইব্নে, তাইমিয়া, তকী উদ্দীন, নাজমু আল-ফাতওয়া, বিশ্লেষণ: আনওয়ার আল-বায ও আমের আল-জাযযার, আল-কাহেরা: দারুল ওফা, ১৪২৬ হি. খ, ১৬, পৃ. ৪৪৪’’।
২. ফিকহী কায়িদায় মাধ্যমে বিধান নির্ণয়: ফিকহী কায়িদা মুজতাহিদ, গবেষক ফকীহ, মুফতী, বিচারক ও শাসকের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শরঈ ইলম। ফিক্হী কায়িদার সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে ফকীহগণ দুটি মতামতে বিভক্ত হয়েছেন। প্রথম মত অনুযায়ী এটি এমন এক সামগ্রিক বিষয় যা তার অধীনস্থ বিধান বা অধিকতর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়, সামগ্রিক নয় যা অধিকাংশ শাখার বিধান নির্ণয়ের জন্য প্রয়োগ করা হয়। ‘‘আল-জুরজানী, আলী ইবনে আহমদ, আত্-তারিফাত, বিশ্লেষণ: ইবরাহীম আল-আবয়ারী, বৈরূত: দারুল কিতাব আল-আরাবী, ১৪১৩ হি. পৃ. ২১৯।’’ দ্বিতীয় মত অনুযায়ী এটি একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধান বা অধিকতর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়, সামগ্রিক নয় বা অধিকাংশ শাখার বিধান নির্ণয়ের জন্য প্রয়োগ করা হয়। ‘‘কাহতানী, ডা. মুফসির, মানহাজু ইসতিখরাজ, প্রাগুক্ত, খ. ২, পৃ. ৪৭৭’’।
ফিক্হী কায়িদা ও উসূলের কায়িদার মধ্যে পার্থক্য : ফিকহ ও উসূল মূলত একটি গাছের দুটি শাখা স্বরূপ। একজন ফকীহকে যেমন-উসূলে পারদর্শী হতে হয়, একইভাবে একজন উসূলবিদকে ফিকহে পারদর্শী হতে হয়। তবুও উভয়টি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে উভয় কায়িদার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।
ইমাম কারাফী সর্বপ্রথম এ দুই শ্রেণীর কায়িদার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করেন। তিনি তাঁর আল-ফুরুক গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন, মুহাম্মদ (সা.) এর শরীয়ত উসূল ও ফুরু এ দু’টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। আর এ উসূল দু’ভাগে বিভক্ত-
প্রথম: উসূলে ফিকহ যার মধ্যে বিশেষত আরবী শব্দতত্ত্বের ভিত্তিতে উদ্ভাবিত বিধান সমূহের মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: সামগ্রিক ফিকহী কায়িদা, যার মধ্যে শরীয়াতের বিধান প্রবর্তনের গুঢ়রহস্য বর্ণিত হয়েছে। যার কোন কিছুই উসূলে ফিকহে বর্ণিত হয়নি। “কারাফী, শিহাবুদ্দীন আহমদ, আল-ফুরুক, বৈরূত: আলিমুল কুতুব, তা. বি. খ. ১, পৃ. ২। অতএব বলা যায়, ফিকহী কায়িদা এমন এক বিধান যার অধীনে ফিকহের অসংখ্য গৌণ বিষয় একত্র হয়। আর উসূলের কায়িদাক মূলত এমন নীতিমালাকে বলা হয় যা একজন ফকীহকে শরঈ দলীল থেকে বিধান নির্ণয়ের পন্থা বাতলে দেয়।
ফিকহী জাবিত (বিধি) ও ফিকহী কায়িদার (মূলনীতি) মধ্যে পার্থক্য: ফিকহী জাবিত বলা হয় এমন এক সামগ্রিক বিধানকে যা ফিকহের একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার উপর প্রয়োগ করা হয়। “কাহতানী, ড. মুফসির, মানহাজু ইসতিখরাজ, প্রগুক্ত, খ. ২, পৃ. ৪৮৬। উপরিউক্ত সংজ্ঞা থেকেই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয় যে, কায়িদা বা মূলনীতি এমন এক সামগ্রিক বিষয় যা বিভিন্ন অধ্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ের বিভিন্ন মাসআলার ওপর প্রয়োগ করা হয়। পক্ষান্তরে জাবিত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অধ্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
উদাহরণ (উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে বিধান নির্ধারিত হয়) কায়িদাটি ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায় যেমন- তাহারাত, সালাত, যাকাত, সাওম, নিকাহ, তালাক ইত্যাদি বিষয়ের উপর প্রয়োগ করা যায়। এমনকি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে, এটি সত্তরটি অধ্যায় প্রবিষ্ট হয়। “সুয়ূতী, জালালুদ্দীন, আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ের, প্রাগুক্ত, পৃ.৪৩। কিন্তু জাবিত শুধু একটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন-‘মৃতব্যক্তি ব্যতীত যার উপর গোসল ফরয তার ওপর অযুও ফরয’ এটি শুধু তাহারাতের অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। “কাহতানী, ড. মুফসির, মানহাজু ইসতিখরাজ, প্রাগুক্ত, খ. ২, পৃ. ৪৮৭।
কায়িদার মাধ্যমে বিধান নির্ণয়ের শর্ত : ১. যে কায়িদাটি প্রয়োগ করা হবে সে কায়িদা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শর্ত বাস্তবে থাকা। যেমন- ‘‘কষ্ট সহজিকরণকে টেনে আনে’’ “সুয়ূতী, জালালুদ্দীন, আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়েয, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬০: ইবনে নুজায়েম, আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়েয, প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৪। ‘‘কষ্ট সহজিকরণকে টেনে আনে’ এ কায়িদাটি বাস্তবায়নের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা হল। “আল-কারফী, আল-ফুরুক, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ১১৮।
ক. কষ্ট বা ক্লেশ বাস্তবেই বর্তমান থাকা। খ. কষ্ট বা ক্লেশ স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া। গ. উক্ত কষ্ট প্রদান শরীয়াত প্রণেতার উদ্দেশ্য না হওয়া। ঘ. কায়িদাটি প্রয়োগ করলে যেন এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছু ছুটে না যায়।
২. কায়িদা সংশ্লিষ্ট বিধান তার চেয়ে শক্তিশালী দলীল বা কায়িদা বিরোধী না হওয়া। যেমন- “ফিকহের মূলনীতি হলো সকল মৃত জীব হারাম” “সুয়ূতী, জালালুদ্দীন, আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ের, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৮৪। কিন্তু এটি মাছের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে না। কেননা মৃত মাছ খাওয়ার বৈধতার ব্যাপারে মহানবী (সা.) এ থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। “বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, অধ্যায়: আত-তাহারাত, অনুচ্ছেদ: হুত ইয়ামুতু ফীল মায়ি ওয়াল জারাদাহ, খ. ১, পৃ. ২৫৪,
৩. যে বিষয়ের বিধান নির্ণয়ের জন্য কায়িদা প্রয়োগ করা হবে বিষয়ে কোরআন সুন্নাহ, ইজমার কোন নস বর্ণিত না থাকা। অন্যান্য কায়েদার ক্ষেত্রে একই ধরণের সতর্কতা নিতে হবে।          (চলবে)