চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা

9

কে.এম লিমন গোয়াইনঘাট

গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়নে গরু চুরির অভিযোগে পিটিয়ে, চুন এবং বালু মিক্স লিকুইড খাইয়ে হেলাল (৩২) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের বাড়ি উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের দাতারি গ্রামে। সে দাতারি গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ১১ নং মধ্যে জাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা বাগানে গরু চুরির অভিযোগে ইসলামপুর গাংপার গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন, আমির উদ্দিন, একই গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে সালামসহ তার সহযোগিরা হেলালকে ধরে নিয়ে যায়। তার পর তাকে একটি গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে চোখে চুন প্রয়োগ ও বালু মিশ্রিত লিকুইড (প্রায় এক লিটার পরিমান) খাওয়ায় তারা। এক পর্যায় হেলাল অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে মধ্যে জাফলং ইউনিয়ন অফিসে নিয়ে রাখা হয়।
সূত্র মতে সেখানেও তাকে রাতভর কয়েক দফা মারপিট করা হয়। বুধবার সকালে হেলালের স্বজনরা মধ্য জাফলং ইউনিয়ন অফিস থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে অতিরিক্ত বমি ও রক্তক্ষরণে মারা যায় হেলাল।
এ ঘটনায় পুলিশের ভ‚মিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের পরিবারের লোকজন। তাদের অভিযোগ- পুলিশের অবহেলার কারণেই হেলালের মৃত্যু হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার এসআই ও মধ্য জাফলং ইউনিয়ন বিট অফিসার প্রভাকর রায় জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হেলালকে উদ্ধার করার জন্য তিনি গিয়েছিলেন, কিন্ত সেখানকার লোকজন বলেছে হেলাল উদ্দিনের পরিবারের লোকজন আসলে তাদের কাছে দিয়ে দিবে। তারপর তিনি ঘটনাস্থলে হেলালকে রেখে চলে আসেন।
অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন আমি কোন মারধর করিনি। আমার এলাকার মানুষজন তাকে মারধর করেছে আমি কিছু সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম মাত্র।
এবিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অতিরিক্ত মারধর এবং চুনা ও বালু মিক্স লিকুইড খাওয়ানোর কারণেই ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেলে পাঠানো হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার স্বজদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।