ছাতকের পিয়াসের পরিবার প্রাণনাশের বিচারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান

3

 

ছাতক সংবাদদাতা

সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রণয় চৌধুরী পিয়াস হত্যা মামলায় ৬ বছর অতিবাহিত হওয়ায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবার শঙ্কা করছেন নিহতের পরিবারের। নিরাপত্তা ও হত্যার বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নিহতের পরিবার জানায়, হত্যাকারীরা রাস্তাঘাটে নানান ভাবে উশৃঙ্খল আচরণ, গালিগালাজ ও মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখায়। এ ব্যাপারে ২০২২ সালে থানায় নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিও করে পরিবার। জিডির পরবর্তীতে গ্রামের লোকজন নিহত পিয়াসের বাড়ির অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করলেও পুনরায় ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে আসামীদের বিরুদ্ধে।
বর্বরোচিত এই হত্যাকাÐের ঘটনায় ১৭ সালের ১২ আগস্ট ছাতক থানায় মামলা করা হয়। নিহত পিয়াসের বাবা বাদী হয়ে এজাহার ভুক্ত ও এজাহার ছাড়া আসামীর নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যা বিচারাধীন রয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে।
নিহতের মামাত ভাই রনজিৎ চৌধুরী আসামীদের নাম উল্লেখ করে জানান, এজাহার ছাড়া- উপজেলার দ.খুরমা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের আব্দুর রহিম পুত্র সাইফুল্লাহ (২৬), দ.খুরমা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের নিজামুদ্দিনের পুত্র এরশাদ মিয়া (২৭), এজাহার ভুক্ত- মায়েরকোল গ্রামের চোরাগালির পুত্র নুরুজামিল (২৫), সুদুখালি গ্রামের শামীম (৩৫), সৈয়দেরগাঁও গ্রামের আমিনুর রশিদ উরফে দুদুমিয়ার পুত্র মাহফুজুর রশিদ তালহা (২৮), সিংচাপইড় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মৃত রফিকুর রহমানের পুত্র আলমগীর হোসেন (৩৫), সিংচাপইর গ্রামের মনাইমিয়ার পুত্র জুয়েল (২৪) ও সিরাজগঞ্জ বাজারের ননিকা রবিদাসের পুত্র স্বপন রবি দাস (২২) নামীয় হত্যাকারীরা টাকা দিয়ে আইনের ফাঁকফোকরে বর্তমানে রয়েছে। তার মধ্যে দুজন হত্যাকারীরা পলাতক রয়েছে ও উপড়ের এজাহার ছাড়া দুই আসামী আমাদের সাথে উশৃঙ্খল আচরন করে।
মামলার এজাহার থেকে জানাযায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট অটোরিকশা চালক প্রণয় চৌধুরী পিয়াস (২০) উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সিরাজগঞ্জ বাজার থেকে অটোরিকশা সহ নিখোঁজ হয়। পিয়াস উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের খুরমা গ্রামের প্রণব চৌধুরী কুটুর ছেলে। হত্যাকারীরা তাকে গলায় তারদিয়ে কেটে হত্যা করে খালের পানিতে ফেলে দেয়। ঘটনার ৪ দিনপর জিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বড়আইল নামক স্থানে পানিতে ভাসমান অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ঘটনার দুদিনপর অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ।
নিহত পিয়াসের মা-বাবা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে জানান, ৬টা বছর পাড় হয়ে গেলেও পরিবারের বড় ছেলে হত্যার বিচার এখনও হয়নি। আসামীরা কেউ হাইকোর্ট থেকে জানিম নিছে, কেউ অল্প কয়দিন জেল খেটে নিম্ন আদালত থেকে জামিনে বাহিরে আছে। আর কয়েকজন আজও পলাতক রয়েছে। আমাদের ছেলে হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীরা রাস্তাঘাটে নানার ভাবে আমাদের সাথে উশৃঙ্খল আচরন, গালিগালাজ করে ও মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখায়। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমাদের একটাই চাওয়া আমাদের ছেলে হত্যাকারিদের ফাঁসি চাই। আর যেনও কোনে মায়ের বুক এভাবে খালি হয়না।