এবার দেশেই উৎপাদিত হবে টিকা

6

কাজির বাজার ডেস্ক

দেশে টিকা উৎপাদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমেরিকার ডিআইআইয়ের সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশে ১৩ রকমের টিকা উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ডায়াডেক ইন্টারনেশনালের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এহসানুল কবীর ও আমেরিকার ডায়ডেক ইন্টারনেশনালের সিইও মার্ক ইমালফ্রেব এই এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। সমঝোতা সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মুহ. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সমঝোতা স্মারকের আওতায় আমেরিকার ডায়াডেক ইন্টারনেশনালের মাধ্যমে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং মান নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের ভ্যাকসিন প্লান্টটি গোপালগঞ্জে প্রায় ৯ একর জায়গায় স্থাপিত হবে। জায়গাও ইতোমধ্যেই অধিগ্রহণ করা হয়ে গেছে। এখানে করোনা ভ্যাক্সিনসহ প্রায় ১৩ রকমের ভ্যাক্সিন তৈরি করা হবে। বিশ্বের মাত্র ৫টি দেশ এই মানের ভ্যাক্সিন উৎপাদন করতে পারে। আমরাও উৎপাদনে চলে গেলে আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ভ্যাক্সিন রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারব। এর সঙ্গে আমাদের দেশে বহুসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।
আমেরিকার ডায়াডেক সম্পর্কে বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, তারা আমাদের কারিগরি সহায়তা দেবে, লোকবল ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে। এখানে তাদের কোনো অংশীদারত্ব থাকবে না। এখানে যে ভ্যাকসিনগুলো তৈরি হবে সেগুলো আন্তর্জাতিক মানের হবে। এই বিষয়ে তারা আমাদের সাহায্য সহযোগিতা দেবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী চার বছরের মধ্যে আমরা উৎপাদনে যেতে পারব। এই প্লান্টে আমরা প্রথমে করোনা ভ্যাকসিন এবং পর্যায়ক্রমে আমাদের প্রয়োজনীয় সব ভ্যাক্সিন উৎপাদন করব। এই ভ্যাকসিন প্লান্ট তৈরিতে সাড়ে ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের আশ্বাস আছে। এরপর আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করতে হবে।
তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। যখন তাদের সঙ্গে চুক্তি হবে, তখন সেই চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। তারা আমাদের টিকা তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দেবে, তারা আমাদের দেশের লোকদের টিকা উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে। আমাদের দেশের লোকজন প্রয়োজন হলে দেশের বাইরেও যাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে।