শাবিতে দ্বিগুণ ভর্তি ফি নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ॥ গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সমন্বয় করতে ফি বেড়েছে-কর্তৃপক্ষ

5

শাদমান শাবাব শাবি থেকে :
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) চলছে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম। তবে হঠাৎ করেই দেশের স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি ফি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া নিয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী,তাদের অভিভাবক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সমন্বয় করতে বাড়ানো হয়েছে ভর্তি ফি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল সভার সিদ্ধান্তে এই চূড়ান্ত ভর্তি ফি ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন- এ এর সামনে দেখা যায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভীড়। ভর্তি হতে আসা এসব শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘ লাইনের সারিতে আবার কেউ-বা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আড্ডায় মশগুল। অভিভাবকরাও দল বেঁধে করছেন আলোচনা। অধিকাংশেরই আলোচনার বিষয়বস্তু – শাবিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়া স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি ফি।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শাবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি ফি ছিলো ৮ হাজার ১০০ টাকা। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সেই ফি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৫ হাজার টাকা, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন ভর্তি ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত রবিবার বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।
বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এতো অল্প সময়ের নোটিশে চূড়ান্ত ভর্তির জন্য একসাথে ১০ হাজার টাকা ম্যানেজ করা অধিকাংশ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও এর একজন ভুক্তভোগী।’ একই অনুষদে ভর্তি হতে আসা আরেক শিক্ষার্থী জানান, তার বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অর্থ-সহায়তা চেয়েছে।
এদিকে বর্ধিত ফি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও। শাবি কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে হতবাক তারা। ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ এক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা শুনেছি গত বছর ভর্তিতে অনলাইনে ৫ হাজার এবং নগদ ৩ হাজার ১০০ টাকাসহ মোট ৮ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বছর অনলাইনে ৫ হাজার টাকা জমা নেওয়া হয়েছে এবং নগদ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতো টাকা একসঙ্গে যোগাড় করা কম-বেশি সবার পক্ষেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’ সঙ্গে থাকা আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘ভর্তি ফি’র বিষয়টি একটু আগে জানালে আমাদের জন্য ভালো হতো। হঠাৎ করে এতো টাকা বৃদ্ধি অনেকের জন্য সমস্যার হতে পারে।’
এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গুচ্ছভুক্ত যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ১৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি এরকম একটি জায়গায় রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গতবার কিছু কম ছিলো। এটি (ভর্তি ফি) নিয়ে বিতর্কও ছিলো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কম। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি বেশি তাদের ভিতরে একটা অস্থিরতা কাজ করে আবার যেগুলোতে কম তাদের মধ্যে একটা স্বস্তির জায়গা থাকে। সেটাকে এবার সমন্বয় করা হয়েছে।
কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত বিশেষ করে ভর্তি সংক্রান্ত বা ছাত্র-ছাত্রী সম্পর্কিত বিষয় সেটি একাডেমিক কাউন্সিলে পাশ হয়। এটিও গত একাডেমিক কাউন্সিলেই পাশ হয়েছে।