বয়সের ভারে ছাত্রলীগ থেকে বাদ পড়তে পারেন যারা

8

কাজিরবাজার ডেস্ক :
বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় সংগঠন ছাত্রলীগ। সংগঠনটি আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে তদবির লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পদপ্রত্যাশীরা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজের সক্রিয়তারও জানান দিচ্ছেন।
ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা আসতে পারেন, এই নিয়ে রাজনীতির মহলে চলছে নানা আলোচনা। সেই সঙ্গে কার কি আমলনামা, ভালো-মন্দ সবকিছু নিয়ে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সক্রিয়তা ও বয়স।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্লিন ইমেজ, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, সংকটে দলের পাশে থাকা, বিতর্কমুক্ত নেতাদের বিবেচনায় রাখছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এ বিবেচনায় নেতাকর্মীদের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে প্রায় দুই ডজন পদপ্রত্যাশীর নাম।
বিগত বছরের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রাম বিভাগ, ঢাকার আশপাশের জেলা ও ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছে না। তাই এবার এসব বিভাগ ও জেলার যোগ্যপ্রার্থীরা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার জোড়ালো সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় যারা
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, সাদ বিন কাদের চৌধুরী, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম, রাকিব হোসাইন, ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজীব, সৈয়দ আরিফ হোসেন, নারী কোঠায় ফরিদা পারভীন, তিলোত্তমা শিকদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহম্মেদ রাসেল, মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন, উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আল আমীন সিদ্দিক সুজন, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক রনি মোহাম্মদ, কর্মসংস্থানবিষয়ক উপ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, আইন সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, উপ-গণশিক্ষা সম্পাদক সোলায়মান ইসলাম মুন্না, আপ্যায়ন সম্পাদক আশরাফুল আলম ফাহাদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপসম্পাদক রাশিদ শাহরিয়ার উদয় ও উপ-সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, মুহসিন হল ছাত্রলীগের সভাপতি শহীদুল হক শিশির আলোচনায় রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে অনেকের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বয়স।
বয়সের কারণে যারা বাদ পড়তে পারেন
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাদের বয়স ২৯ বছরের বেশি তারা ছাত্রলীগের পদ পাবেন না। তবে বয়স ২৯ বছরের বেশি হলেও শীর্ষ পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সোহান খান। যদিও তার বয়স ৩২ অতিক্রম করেছে আরও আগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের বয়স ৩০ অতিক্রম করেছে কয়েক মাস আগে। এছাড়া ছয় বছরের মধ্যে চার বছর মেয়াদি অনার্স শেষ করার নিয়ম থাকলেও ৯ বছর পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ডিগ্রি অর্জন করছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া বয়স ৩০ বছরের কোটা পার করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ। আর ২৯ বছর অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রার্থী হয়েছেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহমেদ রাসেল, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন, সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসসহ এই তালিকায় আছেন দুইজন নারী নেতাও।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে কারা-কারা নেতৃত্বে আসার মতো তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার কারণে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো পড়ে আছে। শীর্ষ নেতৃত্বসহ কোনো ধরনের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ কার্যালয়ে সচরাচর প্রবেশ করতে দেখা যায় না। দিবসভিক্তিক কর্মসূচি পালন করতেই কেবল কেন্দ্রীয় নেতারা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে যান। ২০০৬ সাল থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত আছে। প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ক্যাম্পাস থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের জন্য প্রার্থী হলেও আলোর মুখ দেখছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আলোচনায় যারা
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় সাইদুর রহমান হৃদয়, চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ইমাম বাকের, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক তারেক আজীজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আল আমিন শেখ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল আফসার এবং কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আতিক হাসান রাব্বি আলোচনায় আছেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগের একমাত্র অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের জন্য যে বয়স নির্ধারণ করেছেন, এখন পর্যন্ত তা পরিবর্তন করার কোনো সম্ভাবনা নেই। ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচিত করবেন শেখ হাসিনা। যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেবেন।