ডলার সংকটের কারণে হিলি স্থলবন্দরে কমেছে আমদানি

6

কাজিরবাজার ডেস্ক :
বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন চাল, গম, ভুট্টা, পাথর, টিটাগুড়, গমের ভুসি, ভুট্টার বীজ, আদা, রসুন, আতাফল, মিক্সার মেশিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ হতে পেঁয়াজের ফুলকা, আলুসহ সব ধরনের সবজি, পোশাক কারখানার ঝুট কাপড়, পাটের তৈরি বস্তাসহ অনেক পণ্য রপ্তানি হয়। তবে বর্তমানে ডলারের সংকটের কারণে ভারত থেকে কমেছে সব ধরনের পণ্য আমদানি। অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি শূন্যের কোটায় দাঁড়াচ্ছে। বাণিজ্যভিত্তিক এ বন্দর দিয়ে শুধু রপ্তানি খাতেই বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিলি স্থলবন্দরের আমাদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ বলেন, কয়েক দিন আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ভারতীয় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও এখন তা ২০০ ট্রাকের নিচে নেমে এসেছে। দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে বন্দরের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সব ধরনের পণ্য আমদানি করে থাকে। তবে ইদানীং ডলারের সংকটে কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিলাসবহুল পণ্য যেগুলো আমাদের এখন দরকার নেই সেই পণ্যগুলো নিরুৎসাহিত করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন- চাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন কিংবা গোখাদ্য, মৎস্যখাদ্য এসব পণ্য আমরা শর্তসাপেক্ষে আমদানি করতে পারব। এরইমধ্যে আমাদের এ শর্তে এলসি চলমান। আগে আমাদের যেসব পণ্য বেশি পরিমাণে বাংলাদেশে আসত সেগুলো এখন আসছে না। কারণ অন্যান্য দেশের মতো ভারত বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে নিরুসাহিত করছে। এরই মধ্যে তারা গম আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে, চিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার বায়জিদ হোসেন বলেন, গত পাঁচ বছরে ভারত থেকে ৯৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ১৩ হাজার ২৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে এক হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩০ ভাগ বাড়তি করে হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এনবিআর। বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও পণ্য আমদানির পরিমাণ কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বন্দর দিয়ে চার লাখ ৬৮ হাজার ২৪১ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে বন্দর দিয়ে ছয় লাখ ৬৪৪ টন পণ্য আমদানি হয়।
এতে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের চার মাসে বন্দর দিয়ে এক লাখ ৩২ হাজার ৪০৩ টন পণ্য কম এসেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ কমবে। বন্দরে রাজস্ব আহরণ নির্ভর করে পণ্য আমদানির ওপর। তবে ডলারের কারণে ব্যাংকগুলো এলসি দিচ্ছে না। যে কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাচ্ছে।
হিলি পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি কিছুটা কমেছে। যার জন্য সরকারের পাশাপাশি পানামা পোর্টরও আয় কমেছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত ট্রাকের পণ্য আনলোড করার জন্য ১৬টি সেট রয়েছে; যাতে বৃষ্টির ভেতরেও এই সেটে কাজের কোনো সমস্যা না হয়।
প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ শ্রমিক কাস্টমসের ভেতর কাজ করেন। ভারত থেকে আসা ট্রাকের পণ্য দ্রুত খালাস করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে পারে সেই জন্য পানামা পোর্ট নিরলসভাবে কাজ করছে।