বিশ্বনাথে দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহতের ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার

8

বিশ^নাথ থেকে সংবাদদাতা :
জমির বিরোধে বিশ্বনাথে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ছয়ফুল ইসলাম (২৮) নামের যুবক নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানায় দায়ের করা হয়েছে পাল্টাপাল্টি মামলা।
নিহত ছয়ফুল উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চড়চন্ডি গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক। ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, চড়চন্ডি গ্রামের আব্দুল আজিজ মুন্সি ও নূরুল আমিন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় গুরুতর আহত হন আব্দুল আজিজ মুন্সি পক্ষের ছয়ফুল ইসলাম। পরে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষকালে নারীসহ উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হন। আহতরা হলেন- আব্দুল আজিজ মুন্সি পক্ষের কমরুন নেছা, বদরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম এবং নূরুল আমিন পক্ষের নূরুল আমিন ও নূরুল ইসলাম।
এদিকে, আব্দুল আজিজ মুন্সি পক্ষের ছয়ফুল নিহতের ঘটনায় গতকাল বুধবার তাঁর বাবা হাফিজ আব্দুল মান্নান প্রতিপক্ষের ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা (নং-১৪) দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- পৌর এলাকার চড়চন্ডি গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র নূরুল আমিন ও নূরুল ইসলাম, নূরুল ইসলামের পুত্র সেবুল মিয়া এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের আনরপুর গ্রামের আপ্তাব আলীর পুত্র সুন্দর আলী। অভিযুক্তদের মধ্যে থানা পুলিশ নূরুল আমিন, নূরুল ইসলাম ও সুন্দর আলীকে গ্রেফতার করেছে।
অপরদিকে, আব্দুল আজিজ মুন্সি পক্ষের ৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে নূরুল ইসলামের স্ত্রী আমিরুন নেছা মামলা (নং ১৫) দায়ের করেছেন। এ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- পৌর এলাকার চড়চন্ডি গ্রামের হাফিজ আব্দুল মান্নানের পুত্র (নিহত ছয়ফুলের ভাই) বদরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম, আকবর আলীর পুত্র কদর আলী, আব্দুল লতিফের পুত্র হাফিজ আব্দুল মান্নান ও আব্দুল আজিজ মুন্সি। এদের মধ্য থেকে বদরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম ও কদর আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী আতাউর রহমান জানান- ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা দায়ের করা হয়েছে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে। মামলা করা হয়েছে অপরপক্ষ থেকেও। দু’পক্ষের ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, বাকি ৩ জনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।