গ্যাস সংকটে রপ্তানি হাতছাড়া হচ্ছে পাকিস্তানের

4

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সময় খারাপ গেলে বিপদ চারদিক থেকেই আসে- এ কথা যেন হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির অর্থনীতিতে একের পর এক ধাক্কা। সংকট যেন কাটছেই না। করোনাভাইরাস মহামারি, ব্যাপক মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার মানে ধস নামার পর এবার ভয়াবহ গ্যাস সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। ফলে ঠিকঠাক চলছে না তাদের টেক্সটাইল কারখানাগুলো। এতে কোটি কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দেশটির। খবর ব্লুমবার্গের।
অল পাকিস্তান টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক শহিদ সাত্তার বলেন, অভ্যন্তরীণ গ্যাস অন্য অঞ্চলগুলোতে যাওয়ায় পাঞ্জাবের কারখানাগুলো আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)-ভিত্তিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত মাসে বাধ্য হয়ে এ অঞ্চলের সব কারখানা ১৫ দিন বন্ধ রাখতে হয়। এতে প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের (৪ হাজার ৪০৬ কোটি ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বা ২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা প্রায়) রপ্তানি হারাতে হয়েছে।
পাকিস্তানে কয়েক বছর ধরে স্থানীয়ভাবে এলএনজি উৎপাদন কমছে। ফলে ধীরে ধীরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় আমদানি বাজার হয়ে উঠছে তারা। কিন্তু বৈশ্বিক ঘাটতির মুখে সম্প্রতি এলএনজির দাম এমন পর্যায়ে গেছে, যা পাকিস্তানের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
দক্ষিণ এশীয় দেশটির হাতেগোনা যে কয়েকটি খাতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা যায়, তার মধ্যে সবার আগে নাম আসে টেক্সটাইলের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশে ডেনিম জিন্স থেকে শুরু করে মাথার টুপি পর্যন্ত রপ্তানি করে তারা। সরকারি হিসাবে, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে পাকিস্তানের টেক্সাটাইল উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ এবং দেশটির মোট রপ্তানির ৬০ শতাংশই ছিল এই একটি খাত থেকে।
গ্যাসের চড়া দাম রপ্তানির জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে শহিদ সাত্তার বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অক্ষমতাই এই ঘাটতির কারণ এবং এটি পাকিস্তানের রপ্তানি ও অর্থনীতির ভবিষ্যতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
পাকিস্তান সরকারের তথ্যমতে, দেশটি ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে ১ হাজার ১৪০ কোটি ডলারের টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি করেছে। সেই হিসাবে, হারানো ২৫ কোটি ডলার সম্ভবত গত মাসে পাকিস্তানের টেক্সটাইল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ ছিল।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ব্লুমবার্গ। তবে তাদের কারও সাড়া পাওয়া যায়নি।
শহিদ সাত্তার জানিয়েছেন, গত বুধবার পাকিস্তান সরকার পাঞ্জাবের টেক্সটাইল খাতে গ্যাস সরবরাহ ফের চালু করেছে। কিন্তু বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে এখনো উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কারখানাগুলো মাত্র ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় চালু থাকবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।