নানামুখী উন্নয়নে পরিকল্পনা

3

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বর্ষকে উপলক্ষ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘বিজয়ের ৫০ বছর : লাল সবুজের মহোৎসব’ শীর্ষক নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এই উপলক্ষে প্রায় প্রতি দিনই রাজধানীর হাতিরঝিলসহ নানা স্থানে হচ্ছে নানা রকম জাঁকজমকপূর্ণ বর্ণাঢ্য আয়োজন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণে ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনীতির নানামুখী ব্যাপক উন্নয়নে আগামী ১০ বছর মেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে এফবিসিসিআই, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ স্বপ্লোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে উন্নীত হলে অবধারিতভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। সে ক্ষেত্রে এলডিসি পরবর্তী পরিবর্তিত বৈশ্বিক চাহিদা মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশীয় শিল্পসমূহের সক্ষমতা বাড়াতে একটি ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে এফবিসিসিআই। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যসহ রফতানি খাতে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে নতুন নতুন পণ্যের। অন্যদিকে রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বিশ্ববাজারে চরম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতে পারে। তাতে রফতানি আয় কমে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য নতুন দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ, নতুন কর্মস্থান, কর্মস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তির উন্নয়ন, পণ্যের বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা নিরূপণসহ নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহনের সড়ক ও রেলপথের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, নৌ ও সমুদ্র বন্দরে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশী প্রবাসীদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মকে দেশের মূল অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। কেননা, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রবাসীদের সংযুক্ত করতে পারলে নতুন বাজার সৃষ্টি করা এবং ধরা সহজসাধ্য হবে। এফবিসিসিআই প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানে আগামী দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাহিদা নিরূপণসহ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় ও যথাযথ কর্মকৌশল প্রতিফলিত হবে বলেই প্রত্যাশা।