আফ্রিকা থেকে ফিরলেই কোয়ারেন্টাইন

8

কাজিরবাজার ডেস্ক :
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ প্রতিরোধে আফ্রিকার সাতটি দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নতুন নিয়ম জারি করেছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি সার্কুলার জারি করেছে বেবিচক। সার্কুলারে স্বাক্ষর করেন বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড এ্যান্ড রেগুলেশন বিভাগের সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী এম জিয়া উল কবির।
সার্কুলারে বলা হয়- আফ্রিকার সাতটি দেশ হচ্ছে বতসোয়ানা, ইসোয়াতিনি, ঘানা, নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুইয়ে ও লেসোথো। আদেশটি আজ শনিবার দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর হবে। কোন যাত্রী যদি এসব দেশ থেকে সরাসরি বাংলাদেশে আসেন অথবা গত ১৪ দিনে এসব দেশে ঘুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, সেক্ষেত্রে তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কোয়ারেন্টাইনের জন্য সরকার নির্ধারিত কিছু হোটেল রয়েছে। সেগুলোতে নিজ খরচে থাকতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই হোটেল বুকিং সম্পন্ন করতে হবে। আগত যাত্রীদের হোটেলে থাকা অবস্থায় ৭ম ও ১৪তম দিনে করোনাভাইরাস শনাক্তের আরটিপিসিআর টেস্ট করানো হবে। কোনটির ফল পজিটিভ এলে তাকে হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হবে। বাংলাদেশে প্রবেশ করা যাত্রীদের যাত্রার ৪৮ ঘণ্টা আগে করোনা টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে হবে। তবে ১২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য এ ধরনের কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
উল্লেখ্য, আগে দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনা টেস্ট করানোর সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা ছিল। গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় করোনার রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রন। বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারী এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশটির ৯টি প্রদেশের অন্তত ৫টিতে নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে এবং এটি এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দেশটিতে ৪ হাজার ৩৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হলেও বুধবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৮ হাজার ৫৬১ জনে পৌঁছেছে। তবে তাদের মধ্যে কতজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। পরীক্ষাকৃত সব নমুনার এখনও জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়নি। তবে দেশটির সরকারী প্রতিবেদন বলছে, দেশে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ‘দ্রুত আধিপত্যশীল’ হয়ে উঠছে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ইতোমধ্যে অন্তত দুই ডজন দেশে পৌঁছে গেছে। অবশ্য সরকার আপাতত আফ্রিকান দেশ থেকে বাংলাদেশীদের দেশে না ফেরারই পরামর্শ দিয়েছে। এ বিষয়ে বিমানবন্দরেও বেশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।