কঠিন শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত হউক

8

তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ হচ্ছে মানুষের কল্যাণে। মানবসেবায় আবিষ্কার হচ্ছে নতুন নতুন সফটওয়্যার। তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে জীবন সহজ করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত গোটা বিশ্ব। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে প্রযুক্তিতে অনেকদূর এগিয়েছি আমরা। এখন আর নগদ অর্থ বহন করতে হয় না। বাজারে যেতে হয় না ছোট্ট একটি পণ্যের জন্য। ই-কমার্স নামে প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই হাতে পাওয়া যাচ্ছে সকল প্রয়োজনীয় পণ্য। ই-কমার্স প্রযুক্তিতে আরও কত কি সুবিধা। তবে একই সঙ্গে জীবন সহজ করার জন্য মানুষের ইতিবাচক মনোভাব কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর প্রতারক কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে মাঠে। প্রতারণার নানা অপকৌশল প্রণয়ন করেছে তারা। পেতেছে নানা ফাঁদ। এমন সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী সারাদেশে ইতোমধ্যে ৮৬টি প্রতারক ই-কর্মাসের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব, সিআইডি ও ডিবির অনুসন্ধানে উঠে আসছে তাদের ভয়ংকর সব প্রতারণার কৌশল। সিআইডি জানিয়েছে- তাদের জালে ধরা পড়েছে ৬০টি প্রতারক প্রতিষ্ঠান। র‌্যাবের নজরদারিতে রয়েছে আরও গোটা বিশেক। ডিবির তদন্তে ধরা পড়েছে ৬টি। এদেরকে পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সরকারী সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে ১৭ জন প্রতারককে আটক করা হয়েছে। সাঁড়াশি অভিযানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে ৬ জন। প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ঘাপটি মেরে থাকা প্রতারকরা। ই-কমার্র্সের প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জাতীয় প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির বরপুত্র ই-কমার্স। এর মাধ্যমে ফাঁদ পেতে কৌশলে হাতিয়ে নেয়া হয় গ্রাহকদের অর্থ-সম্পদ। প্রতিষ্ঠানগুলো শুরুতে নানা অফারে প্রলুব্ধ করে গ্রাহকদের। ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে তাদের আসল রূপ। অগ্রিম অর্থ নিলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ করে না। পণ্য সরবরাহকারী বা মার্চেন্টদেরও পরিশোধ করা হয় না তাদের পাওনা। দুই পক্ষ থেকে অর্থ আদায় করে প্রতারকরা এক পর্যায়ে পালানোর পথ খোঁজে। দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ই-কমার্স দ্রতই প্রতারণার নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার হতে শুরু হয়েছে। করোনা সঙ্কটে লকডাউনের মতো দুঃসময় আশীর্বাদ হয়ে আসে প্রতারকদের কাছে। একের পর এক অপকর্ম প্রকাশে হঠাৎ করেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ই-কমার্স পড়েছে আস্থার সঙ্কটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ‘ব্যবসার আড়ালে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ, অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য না দেয়ার অভিযোগের স্তূপ বাড়ছে ক্রমশ।’
মানুষকে প্রযুক্তির সেবা দিয়ে নিজের ব্যবসা বাড়ানোর সহজ পথটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিতে পারত ইতিবাচক হিসেবে। অল্প সময়ে দ্রুত অর্থ আয়ের নেশায় এমন একটি সুন্দর ব্যবস্থাকে তারা ব্যবহার করেছে প্রতারণার কৌশল হিসাবে। গোটা বিশ্বে যখন এই প্রযুক্তির সুফল নিয়ে মানুষ জীবনকে অনেকটাই সহজ করে ফেলেছে, তখন শুরুতেই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আস্থার সঙ্কট। যারা এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিতে হবে। কঠিন শাস্তির মাধ্যমে সৃষ্টি করতে হবে উদাহরণ। কেউ যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণায় জড়িত না হয়, সেই শিক্ষা আসতে পারে দৃষ্টন্তমূলক শাস্তি থেকে।