ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন এবং বিশ^ হার্ট দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত ॥ বিশে^ হৃদরোগে মৃত্যুর হার বছরে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮৬ লাখ

3

২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার ছিলো বিশ^ হার্ট দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্যের বিষয় ‘হৃদয় দিয়ে হৃদয়ের যত্ন নিন’। বিশে^র বিভিন্ন দেশের মতো সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঐদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত হৃদরোগীদের ফ্রি পরামর্শ সেবা এবং প্রয়োজনবোধে ইসিজি করা হয়। পরবর্তীতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সভাপতি প্রফেসর ডা. এম এনায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং পাবলিসিটি সেক্রেটারি আবু তালেব মুরাদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর এম. এনায়েত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়ন এবং অর্জনের রোল মডেল। তিনি দেশের জন্য যা অর্জন করেছেন, তা নজিরবিহীন। এনায়েত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ^ দরবারে বাংলাদেশকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।
প্রফেসর ডা. এম এনায়েত উল্লাহ বিশ^ হার্ট দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বিশ^জুড়ে অসংক্রামক রোগ হিসেবে হৃদরোগ আশংকাজনক হারে বিস্তার লাভ করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, অসংক্রামক মরণব্যাধি হিসেবে হৃদরোগের অবস্থান শীর্ষে। বিশে^ হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার বছরে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮৬ লাখ। অন্যান্য রোগের মৃত্যুর তুলনায় হৃদরোগে মৃত্যুর হার ৩১ শতাংশ।
প্রফেসর ডা. এম এনায়েত উল্লাহ আরো বলেন, বাংলাদেশেও হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। উন্নত আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর জীবনাভ্যাস, অসচেতনতা এসব কারণে হৃদরোগ শুধু বড়দের নয়, শিশু কিশোরদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাত্যাহিক জীবন যাপনে কিছু পরিবর্তন এনে হৃদরোগ প্রতিরোধ সম্ভব। এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ বাড়ানো, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা, শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানো এবং জর্দাপাতা, তামাক সেবন ও ধূমপান না করা।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. আমিনুর রহমান লস্কর বলেন, এবারের বিশ^ হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে হৃদয় দিয়ে হৃদয়ের যত্ন নেয়াকে মূল্যায়িত করা হয়েছে। এতে করে আমরা হৃদরোগ প্রতিরোধে আরো যত্নশীল এবং সচেতন হয়ে হার্টের সক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে পারি।
সার্বিক অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. সুধাংশু রঞ্জন দে, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাহবুব সোবহানী চৌধুরী, ট্রেজারার জামিল আহমেদ চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল মালিক জাকা ও ডা. এস এম হাবিবুল্লাহ সেলিম এবং হাসপাতালের সিইও কর্ণেল (অব.) শাহ আবিদুর রহমান ও ডেপুটি ডাইরেক্টর ডা. আব্দুল মুমিন চৌধুরী প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি