পাট শিল্পের উন্নয়ন

6

বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত সোনালি আঁশের সুদিন ফিরে এসেছে আবার। দেশে এখন পাটের ভরা মৌসুম। গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজার ও মোকামগুলো সরগরম সোনালি আঁশের প্রাচুর্যে। পাট চাষীদের মুখেও এখন চওড়া হাসি। কেননা, পাটের বাজার বেশ চাঙ্গা। দামও বেশি- প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়। কোথাওবা আরও বেশি। এর আগে এত বেশি পাটের দাম কখনও পাননি কৃষক। আর কিষাণীরা ব্যস্ত গ্রাম-বাংলার পথে প্রান্তরে পাটের আঁশ ছাড়ানোসহ রোদে শুকাতে। এবার সারা দেশে ৭ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে চাষ হয়েছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনও ভাল। এবার ৯০ লাখ বেল পাট পাওয়া যেতে পারে আশা করা হচ্ছে। উৎপন্ন পাটের আঁশের ৫১ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বেসরকারী পাটকলগুলোতে। কেননা, সরকারী পাটকলগুলো আপাতত বন্ধ। আর বাকি ৪৪ শতাংশ কাঁচা পাট রফতানি হয় বিভিন্ন দেশে। মাত্র ৫ শতাংশ কাঁচা পাট ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি কাজে। বর্তমানে পাট দিয়ে চটের বস্তা ও রশি ছাড়াও তৈরি হচ্ছে বহুবিধ পণ্য। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে কৃত্রিম তন্তুর পরিবর্তে পাটতন্তুর চাহিদা বেড়েছে বহুলাংশে। এমনকি পাটখড়ির কদরও বেড়েছে অনেক। সুতরাং এ কথা বলা যেতেই পারে যে, পাটের সুদিন ফিরে এসেছে দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
সরকারী ১৪টি পাটকল লিজ নিতে চারগুণ আবেদনপত্র জমা শীর্ষক সংবাদটিও আশাব্যঞ্জক। কেননা, ফিরেছে পাটের সুদিন। সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ২২টি পাটকল বন্ধ করে দিলেও খুব শীঘ্রই সেগুলো লিজিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চালুর অঙ্গীকার করেছিল। বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্বটি পালন করবে বলেই প্রত্যাশা। সরকার উপর্যুুপরি লোকসানের মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত ২২টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা এবং কর্মরত ২৪ হাজার ৮৮৬ জন শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসর দিলেও এক্ষেত্রে আবার আশার আলো দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে পাট থেকে তৈরি হচ্ছে তিন শতাধিক রকমের আকর্ষণীয় ও মূল্যবান পণ্য। সবচেয়ে বড় কথা, পাট থেকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পচনশীল পলিথিন। বর্তমানে যে প্লাস্টিক পলিথিন দেশে ও বিদেশে যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে, তা প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য সমূহ ক্ষতিকর। সে অবস্থায় বিকল্প হিসেবে পাটের পলিথিন ব্যবহারের অত্যুজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্বব্যাপী। বিশ্ববাজারে পাটের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে ৫০০ বিলিয়ন পিসের। এর ১০ শতাংশ বাজার দখল করতে পারলে বছরে আয় করা সম্ভব ৫০ হাজার কোটি টাকা। পাট খাতের বৈশ্বিক রফতানি আয়ের ৭২ শতাংশ এখনও বাংলাদেশের দখলে। সে অবস্থায় পাট শিল্প নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে অবশ্যই।