বড়লেখায় সড়কের বেহাল অবস্থা, ধান রোপণ করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

5
বড়লেখায় প্রতিবাদ স্বরূপ সড়কে ধান রোপণ করছে এক শিশু।

বড়লেখা থেকে সংবাদদাতা :
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভবানীপুর ও বাদে ভাটাউছি গ্রামের দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। বর্ষায় কাঁদা জলে সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যে পায়ে হেঁটে রাস্তা পারাপার দুষ্কর হয়ে উঠেছে। এলাকা বাসীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকা করণের দাবি জানিয়ে আসলেও উল্লেখযোগ্য কোন সাড়া মেলেনি। তাই এবার বাধ্য হয়ে সড়কে ধান রোপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকার যুবক ও তরুণ সমাজ। সোমবার সকালে গ্রামের যুবক ও তরুণরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধানের চারা রোপণ করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ভবানীপুর ও ভাদে ভাটাউছি গ্রামের দুই কিলোমিটার সড়ক দিয়ে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার জনগন চলাফেরা করেন। এছাড়া সড়কটি গ্রামের প্রধান রাস্তাও। অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কাঁচা হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে৷ এতে চরম বিপাকে পড়েন এলাকাবাসী। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য কোন গাড়ি গ্রামে ঢুকতে পারে না৷ ফলে অনেকসময় বয়স্ক রোগীদের টুকরিতে করে গাড়িতে নিয়ে তুলতে হয়৷ বর্তমান সরকার চারদিকে রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করলেও দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত এই এলাকা। যত দ্রুত সম্ভব এলাকাবাসীর স্বার্থে সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ভবানীপুর বাদে ভাটাউছি উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি এবাদুর রহমান বলেন, ‘ এই সড়ক দিয়ে কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচল। অল্প বৃষ্টিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। আমরা দীর্ঘদিন থেকে রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু বার বার আমরা আশা পেয়ে আশাহত হই। অদৃশ্য কারণে সড়কটি পাকাকরণ করা হচ্ছে না। আমরা মন্ত্রীর কাছেও রাস্তার ব্যাপারে আবেদন করেছিলাম। বর্তমানে সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যে ধান রোপণ করলে ধান হয়ে যাবে৷ আমরা প্রতিবাদ স্বরূপ ধান রোপণ করেছি।
৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা এমাদ আহমদ বলেন, ‘সড়কটি পাকাকরণের জন্য আমরা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কাজ হবে হবে বলে আমাদের আশা দেওয়া হচ্ছে। সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।
ওয়ার্ড আওয়ামিলীগের সভাপতি জয়নাল উদ্দিন বলেন, ‘ সড়কটি সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সময় বরাদ্দ আসে। কিন্তু আসার পর সেগুলা কোথায় থেকে কোথায় চলে যায় আমরা খবর পাই না। সড়কটি বর্তমানে বেহাল অবস্থা। পায়ে হেঁটে চলাচলে কষ্ট হয়। সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যে এলাকার যুবক তরুণরা ধান রোপণ করেছে।’
৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জুবায়ের লিটন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি রাবিশ ও মাটি ফেলা হয়েছে। বৃষ্টির দিন তাই গাড়ি চলাচলের কারণে খারাপ হয়ে যায়।
বড়লেখা উপজেলা প্রকৌশলী সামসুল হক ভূঞা বলেন, ‘সড়কটি পাকাকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।