কানাইঘাট লোভাছড়া পাথর কোয়ারি পরিদর্শনে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ॥ পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের বিপক্ষে সরকারের অবস্থান নয়

3
কানাইঘাট লোভাছড়া পাথর কোয়ারি এলাকা পরিদর্শন করছেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম (বার)।

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
কানাইঘাট সীমান্তবর্তী লোভাছড়া পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করেছেন পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম (বার)। তিনি গতকাল রবিবার বেলা দেড়টার দিকে নদীপথে নৌকা নিয়ে লোভাছড়া পাথর কোয়ারী এলাকা ঘুরে দেখেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক জব্দকৃত পাথরের স্তুপগুলো পরিদর্শন করেন। এছাড়া ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকা ইজারাবিহীন কোয়ারিতে অবস্থান করে বাস্তবচিত্র দেখেন। পদির্শনকালে বেশ কয়েকজন কোয়ারির পাথর ব্যবসায়ী তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি তাদের বক্তব্য মনযোগ সহকারে শুনেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, করোনাকালীন সময় ২০২০ সালের ১৫ জুলাই ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারনে দেখিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট এর কর্মকর্তারা তাদের ১ কোটি ঘনফুট পাথর জব্দ করেন। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও জব্দকৃত পাথরের কোন সুরাহা এখন পর্যন্ত হচ্ছে না এক্ষেত্রে তারা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। পাথর ব্যবসায়ীরা বলেন, কোয়ারিতে জব্দকৃত পাথর অপসারন বা বিক্রি করা হচ্ছে না একটি মহল এ নিয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার সব সময় শ্রমজীবি মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কল্যাণের জন্য কাজ করে থাকে আপনাদের সমস্যার বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব যাতে করে কোয়ারির জব্দকৃত পাথরের সমাধান হয়। নানা কারনে আমি লোভাছড়া পাথর কোয়ারির বর্তমান অবস্থা ও জব্দকৃত পাথর কি অবস্থায় রয়েছে তা স্বচক্ষে দেখতে এসেছি। পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের বিপক্ষে সরকারের অবস্থান নয় আমরা আপনাদের পাশে আছি যেহেতু কোয়ারিতে রাখা পাথর জব্দ করা হয়েছে সেটি প্রশাসনিক ভাবে এখন সমাধান করতে হবে। প্রশাসনিক ভাবে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোয়ারিতে জব্দকৃত পাথর পরিবহন, বিপণন কোন অবস্থাতেই করা যাবে না এবং কোয়ারি এলাকায় কোন ধরনের স্টীলবডির ইঞ্জিন নৌকা রাখা যাবে না। পুলিশ আইনশৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি কোয়ারি এলাকায় সব সময় অবস্থান করে পাথর পাহারা দিচ্ছে এতে করে থানা পুলিশের দৈনন্দিন সেবাও কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। কোয়ারি পরিদর্শন কালে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম এর সাথে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন, অতিরিক্ত ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার, সিলেট এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, সিলেট রেঞ্জের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম। এর আগে ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ কানাইঘাট থানায় আসলে তাকে গার্ডঅবওনার প্রদান সহ ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম সহ থানার পুলিশ অফিসারবৃন্দ। বিকেল ৫টায় তিনি থানার পুলিশ অফিসার সহ সকল সদস্যদের নিয়ে মত বিনিময় করেন। এ সময় তিনি আইনশৃংখলার উন্নয়নের পাশাপাশি সব ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড দমন, মাদক, চোরাচালান বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন সহ সকল পুলিশ অফিসারদের আরো নিষ্ঠা ও সত্যতার সহিত দায়িত্ব পালন করে পুলিশি সেবা তাৎক্ষণিক জন সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নিদের্শনা প্রদান করেন।