চুনারুঘাটে গ্রামীণ বাজারগুলোতে ক্যারাম খেলার নামে চলছে জুয়া

7

চুনারুঘাট থেকে সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ বাজারগুলোর চায়ের স্টলে ক্যারাম খেলার নামে চলছে জুয়া। আর ক্যারাম খেলতে স্কুল-কলেজের ছাত্ররা একধাপ এগিয়ে। তারা জড়িয়ে পড়ছে টাকা দিয়ে জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে। আর বিভিন্ন বয়সের যুবকরাও এ ক্যারাম খেলায় কোন অংশে কম নয়?
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ২নং আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আমুরোড বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারের হোটেল ও চায়ের স্টলসহ অলিগলিতে ক্যারাম বসিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দোকানিরা। চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এসব দোকানে দিনের বেলায় স্কুল-কলেজের ছাত্ররা বাজি ধরে ক্যারাম খেলে আর রাতের বেলায় বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন বয়সের যুবকরা মোটা অংকের টাকা দিয়ে বাজি ধরে ক্যারাম খেলে। এতে করে ছাত্রদের একদিকে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। ছাত্ররা ক্যারাম খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকরা।
জানা গেছে, উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আমুরোড বাজারের রেলওয়ের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দোকান ঘরগুলোর চায়ের স্টলে গজিয়ে উঠেছে ক্যারামের আসর। ক্যারামে প্রতি গেম এক বোতল সেভেনআপ বা বিভিন্ন জাতের ঠান্ডা থেকে শুরু করে ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকা বাজি ধরে খেলা চলছে। খেলায় ক্যারাম বোর্ড মালিক গেমপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা করে নেন বোর্ড ভাড়া ও বরিক পাউডার খরচ বাবদ। এতে প্রতিদিন বোর্ড মালিকরা ৫০০ থেকে হাজার টাকারও ঊর্ধে পর্যন্ত খেলোয়াড়দের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছেন।
সামান্য পুঁজি খাটিয়ে এ পথে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা রোজগার করছেন বোর্ড মালিকরা। কিন্তু ছাত্র, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, ভ্যানচালকসহ অন্যরা জুয়া খেলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কম বয়সী শিক্ষার্থীরা বেশির ভাগ সময় ক্যারাম খেলার নামে জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে, এতে করে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। সচেতন মহলের লোকজনরা বলছেন এতে করে তারা শখের বশে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়তে পারে ?।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষিত সমাজের লোকজনরা বলছেন, ‘চলমান করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ সমস্যাটা হচ্ছে। তারা মনে করছেন শিক্ষার্থীরা বাসা-বাড়ী থেকে কখন কোথায় যাচ্ছে সে ব্যাপারে অভিভাবকদের খেয়াল রাখা উচিত বলে মনে করছেন। বাজারের চায়ের স্টলসহ অলিগলিতে ক্যারাম খেলা বন্ধ করে দেওয়া এখনই উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষিত সমাজের লোকজন ও সচেতন মহলসহ অভিভাবকরা। আর তা না হলে, এ ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটতে পারে বড় ধরনের অঘটন।