গোয়াইনঘাটে লকডাউন মানতে অনীহা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রশাসনের আহবান

3

গোয়াইনঘাট থেকে সংবাদদাতা :
সারাদেশের বিভিন্ন জায়গার মত লকডাউন মানতে নারাজ গোয়াইনঘাট উপজেলার সাধারণ মানুষ। মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সরকার ঘোষিত লকডাউনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল)।
প্রথমদিনের মতই গোয়াইনঘাটে একরকম ঢিলেঢালাভাবেই চলছে লকডাউন। প্রধান সড়কগুলোতে বাস না থাকলেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন কাজে বের হওয়া এই মানুষদের যাতায়াতের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি। তবে ব্যতিক্রম দৃশ্যও দেখা গেছে বেশ কয়েকটি জায়গায়।
মঙ্গলবার লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে চোখে পড়েনি বাস। তবে ইমা লেগুনা পিকআপ-কাভার্ড ভেন ইত্যাদি দিয়ে মানুষ যাতায়াত করেছে।
এদিকে লকডাউন হলেও যানজট দেখা গেছে গোয়াইনঘাট সালুটিকর সড়কে ও পয়েন্টগুলোতে রয়েছে যানবাহনের চাপ।
স্থানীয় সালুটিকর বাজার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, অনেকের মুখে মাক্স নাই, সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে অনেকেই আসতে নারাজ। সংবাদকর্মী দেখলেই তারা বিরক্ত বোধ করেন। আবার কেউ কেউ অকপটে বলেন, আপনারাও কি সাধারণ মানুষের পক্ষে না? অনেকে বলেন, এইসব ছবি তুলে নিলে সরকার কি আপনাদেরকে পুরস্কার দেবে, না আমাদের ঘরে বাচ্চাকাচ্চাদের খাবার দেবে? যদি সরকার এইসব দেয় তাহলে বেশি করে ছবি তুলেন।
লেগুনায় বসে থাকা এক যাত্রী সংবাদকর্মীর ক্যামেরা দেখেই গামছা দিয়ে মুখ ঢাকেন। অন্য একজন ক্যামেরার সামনে না পড়তে দৌড় দেন।
উপজেলার সচেতন মহলের দাবি আমরা গুটি কয়েকজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতন থাকলে হবে না, লকডাউন মানুক বা না মানুক ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাক্স পরে সচেতনতার মাধ্যমে চলাফেরা করা সর্বজনের প্রয়োজন। সমস্যাটা ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগত। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে সবাইকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও নিরুপায়, কয়জনকে সাজা দেবেন, জরিমানা করবেন আর ব্যবস্থা নিবেন ও কতটুকুইবা কঠোর হতে পারবেন। কারণ সাধারণ মানুষের আকুতি-মিনতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়ভাবে অনেকে পরিচিত আবার অনেকের পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কেও তারা অবগত। তাই ইচ্ছা থাকলেও কঠোর হতে পারছেন না।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে বেলা পৌনে দুইটা পর্যন্ত উপজেলা সদরে আগত লোকজনের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেন সিলেট শহরস্থ গোয়াইনঘাট ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এ সময় সাথে ছিলেন গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ, এস আই মাসুম আলমসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা, ছাত্র পরিষদের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শিব্বির আহমদ আইন বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, সদস্য হাসান ফয়ছল নাদিম, কামরুল ইসলাম, সাইদুর রহমান ও জসিম উদ্দিন।
সরকারের নির্দেশনা ও সর্বসাধারণের প্রতি স্বাস্হবিধি মেনে চলার উদাত্ত আহবান জানিয়ে ওসি আব্দুল আহাদ ছাত্র পরিষদের এই মহতি কাজের প্রসংশা করে সবাইকে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান। এর পর্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের কার্যক্রম বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমানকে অবহিত করেন।