এমসি কলেজ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক রনি ৩ দিনের রিমান্ডে

3

স্টাফ রিপোর্টার :
ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণের প্রাইভেট কারে গৃহবধূ তরুণী গণধর্ষণের দায়েরকৃত মামলার আসামি শাহ মো: মাহবুবুর রহমান রনিকে (২৫) ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। রিমান্ডকৃত রনি হবিগঞ্জ সদর থানার বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার পুত্র বর্তমানে এমসি কলেজ হোস্টেল ৭নং ব্লকের ২০৫ নং রুমের বাসিন্দা।
গতকাল সোমবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আতালতে ৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। এ সময় রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে অস্ত্র মামলায় সাইফুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের সহকারি কমিমশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ তরুণী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণের একটি প্রাইভেট কারে ধর্ষণ করে লম্পটরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ৬ আসামীকে অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়। এদিকে শুক্রবার ঘটনার দিন মধ্যরাতে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানকালে পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি রামদা, দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে মামলার আসামী সাইফুর রহমানকে (২৮) আসামি করে ও পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, অর্জুন লস্কর, বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল এবং তারেক আহমদ। মামলার অপর ৩ আসামি অজ্ঞাত। এজাহারভূক্ত ৬ আসামিসহ মোট ৮ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে ৫দিন করে প্রত্যেককে রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বর্তমানে আসামীরা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।