সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ॥ মাধবপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, মামলা না তুলায় বাবাকে গুম

8

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের মাধবপুরের দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা তুলে না নেয়ায় স্কুলছাত্রীর বাবাকে ‘গুম’ করার অভিযোগ উঠেছে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
নিখোঁজের ৯ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমন অভিযোগ এনে এবং স্বামীর সন্ধান পেতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অসহায় গৃহবধু পারভীন আক্তার।
সোমবার (৬ অক্টাবর) দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ৯ম শ্রেণিকে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন একই গ্রামের জসীম মিয়া ও অলিদ মিয়া। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বাদি হয়ে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য মাধবপুর থানাকে দায়িত্ব দেন। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার প্রতিবেদন আসামীদের পক্ষে দেয়ায় বাদি আদালতে নারাজি দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নারাজি না-মঞ্জুর করে ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান করেন। পরে ওই স্কুলছাত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল করেন। হাইকোর্ট আপীল গ্রহণ করে আসামীদের নামে নোটিশ প্রেরণ করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তার স্বামী নিজাম উদ্দিন একই গ্রামের রহমত আলীর বাড়িতে কাজ করছিলেন। এ সময় আসামীরা হাইকোর্টের আপীল তুলে নেয়ার জন্য নিজাম উদ্দিনকে চাপ প্রয়োগ করে। তিনি মামলা তুলবেন না বলে জানালে আসামীরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। একই দিন বিকেলে সাজিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিজাম উদ্দিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিন্তু গভীর রাত হলেও সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। কোন উপায় না পেয়ে পারভীন আক্তার মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এতেও স্বামীর সন্ধান না পেয়ে গত ২ মার্চ পারভীন আক্তার ৫ জনের নাম উল্লেখ করে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরর পর আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। কিন্তু ৭ মাস অতিবাহিত হলেও খন প র্যন্ত সিআইডি নিখোঁজ ব্যক্তির কোন সন্ধান দিতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে আমার মেয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। কিন্ত মামলা দায়েরের পর আসামীরা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। আমার স্বামী নিখোঁজের দিন আসামী পক্ষের একজন বিষয়টি সমাধানের কথা বলে নিয়ে গেলে তিনি আর ফিরে আসেননি। আমি জানি না তিনি এখন কোথায় আছেন, নাকি আসামীরা তাকে খুন করে ফেলেছে। আমি অনতি বিলম্বে আমার স্বামীকে ফেরত চাই।’
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর রঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘নিজাম উদ্দিন নিখোঁজ হন জানুয়ারি মাসে। আমার কাছে মামলা আসে জুনে। এরপর থেকে আমি তাকে উদ্ধারের জন্য সবধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এছাড়া তিনি নিখোঁজ হয়েছেন নাকি অপহরণ হয়েছেন সেটি বুঝা যাচ্ছে না।’